পাতা:ইসলামী ধর্মতত্ত্বঃ এবার ঘরে ফেরার পালা.pdf/১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ইসলামী সৃষ্টিতত্ত্ব

 আল্লাই এই বিশ্ব সংসারের সৃষ্টিকর্তা এবং তার এই সৃষ্টিকার্য বাইবেলের জেনেসিস অধ্যায়ে বর্ণিত সৃষ্টিকার্যের অনুরূপ, কিন্তু হুবহু এক বলা চলেনা। বাইবেলে যেমন গড় ছয়দিনে সব সৃষ্টি করেছেন, কোরান মতে আল্লাও ঐ ছয়দিনেই সৃষ্টিকার্য সম্পূর্ণ করেছেন। তবে বাইবেলে যেমন গড কোন্ দিন কি সৃষ্টি করেছেন তার পূর্ণ বিবরণ পাওয়া যায়, কোরানে সে রকম বিবরণ অনুপস্থিত। কোরানে যা পাওয়া যায় তা হল, আল্লা প্রথম দুদিনের মধ্যেই জল, মাটি, আকাশ, বাতাস, নদী-নালা, পাহাড়-পর্বত, সবসৃষ্টি করে ফেললেন এবং বাকী চারদিনে মানুষের জন্য জীবিকার সৃষ্টি করলেন।এখানে জীবিকা বলতে যব, গম, ধান, খেজুর, ফলমূল, মাংস ইত্যাদি, যা মানুষ আহার্য হিসাবে গ্রহণ করে সে সব কিছুকে বােঝায়। আল্লা শূন্য থেকেই সবসৃষ্টি করেন এবং এর জন্য কোন উপকরণের প্রয়ােজন হয় না। কি সৃষ্টি করবেন তা মনে মনে স্থির করে কুন বা হও বললেই তা সৃষ্টি হয়ে যায়।

 হজরৎ মহম্মদ মনে করতেন যে, কোন এক শনিবার আল্লা তার সৃষ্টিকার্য শুরু করেন এবং ঐ দিন তিনি মাটি সৃষ্টি করেন। পরদিন রবিবার তিনি পাহাড়-পর্বত সৃষ্টি করেন। তারপর সােমবার গাছপালা এবং মঙ্গলবার অনানা পরিশ্রমসাধ্য সৃষ্টিকার্য করেন। বুধবার তিনি আলাে এবং বৃহস্পতিবার পশু সৃষ্টি করেন। সব শেষে শুক্রবার আসরের নামাজের পর তিনি প্রথম মানব হজরৎ আদমকে সৃষ্টি করেন (মুসলীম-৬৭০৭)। উপরিউক্ত বিবরণ থেকে মনে হয় যে, প্রথম চার দিন আল্লা অন্ধকারের মধ্যেই তার সৃষ্টিকার্য সম্পন্ন করেন।

 শ্ৰীগিরিশচন্দ্র সেন তার “কোরআন শরীফ” গ্রন্থে “তফসীর হােসেনী” প্রভৃতি ইসলামী গ্রন্থ থেকে সৃষ্টির কিছু কিছু বিস্তৃত বিবরণ দিয়েছেন। কোন মতানুযায়ী। আল্লা প্রথমে বাতাস সৃষ্টি করেন এবং পরে জল সৃষ্টি করে তাকে বাতাসের উপর। স্থাপন করেন এবং জলের উপর তার সিংহাসন বা আরস স্থাপন করেন। বাতাসের উপর জলকে স্থাপন করার মত এমন অসম্ভব কাজ তিনি এজন্যই করলেন যাতে মানুষ তার অসীম ক্ষমতার কিছুটা আঁচ করতে পারে এবং কত অসম্ভবকে তিনি সম্ভব করতে পারেন এটা বুঝে নিয়ে তার পরাক্রমকে ভয় করে এবং সর্বদা তার অনুগত থাকে। অন্যমতে মক্কার কাবাগৃহ (সমতল) পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত এবং আদিতে যখন শুধু জল ছিল তখন ঐ কাবা জলের উপরে একটা বুদ্বুদের মত ভাসছিল। পরে আল্লা ঐ বধুদকে কেন্দ্র করে চতুর্দিকে মাটি সৃষ্টি করেন এবং