পাতা:ইসলামী ধর্মতত্ত্বঃ এবার ঘরে ফেরার পালা.pdf/১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

১৬

ইসলামী ধর্মতত্ত্বঃ এবার ঘরে ফেরার পালা

আদমের মূর্তি তৈরি করলেন (মুসলীম-৬৮০৯)। তারপর যেই কুন্ বললেন, অমনি তা রক্ত মাংসের মানুষে পরিণত হল (২/১১৭)। তারপর তিনি তাতে আত্মা বা রুহ ফুকে দিয়ে জীবিত করে তুললেন। এই দিনটি ছিল পবিত্র জুমআ বা শুক্রবার। মানুষ সৃষ্টি করার বহু আগেই আন্না সমস্ত রুহ সৃষ্টি করে একটা বিশেষ জায়গায় সংরক্ষিত করে রেখেছিলেন এবং সেখানে যেই সব আত্মার মধ্যে পরিচয় ও মিল হয়েছিল, পৃথিবীতে আসার পর তাদের মধ্যে আকর্ষণ, প্রেম ও মিলন সংঘটিত হয়। পক্ষান্তরে যে সব আত্মার মধ্যে গরমিল ছিল, পৃথিবীতে আসার পর তাদের মধ্যে গরমিলই স্থাপিত হয়। এই রুহ সম্বন্ধে মানুষের খুব বেশী জ্ঞান হওয়া সম্ভব নয় কারণ আল্লায়লা এ সম্বন্ধে মানুষকে খুবই সীমিত জ্ঞান দিয়েছেন (১৭/৮৫)।

 যাই হোক, হজরৎ আদমইহলেন পৃথিবীর প্রথম মানুষ এবং আজকের পৃথিবীতে যত মানুষ আছে সবাই এই আদি পিতা আদমের বংশধর। ভারতের হিন্দুরা আদমের দশম পুরুষহজরহের পুত্র হাম-এর বংশধর এবং হজরৎ মহম্মদ হলেন আদমের ৯০তম বংশধর। যে মাটি দিয়ে আন্নাতায়লা হজরৎ আদমকে সৃষ্টি করেছিলেন তার মধ্যে লাল, হলুদ ও কালো রঙের মাটি মেশানো ছিল। তাই আজ আদমের বংশধরদের মধ্যে কেউ লাল, কেউ হলুদ, কেউ কালো ইত্যাদি। একই মানুষের শরীরের খানিকটা লাল, খানিকটা কালো ও খানিকটা হলুদ হলে এ ব্যাখ্যা মেনে নিতে সুবিধা হত সন্দেহ নেই। হজরৎ আদমের ষাটহাত আকৃতি হ্রাস পেতে পেতে মানুষ তার আজকের উচ্চতায় পৌছেছে। তবে কেয়ামতের পর মানুষ যখন আবার জান্নাতে ফিরে যাবে তখন পুনরায় সেই ষাটহাত আকৃতি ফিরে পারে।

 আম্লায়লা সর্বপ্রথম আদমকে সমবেত ফেরেস্তাদের সঙ্গে সালাম বিনিময় করতে বললেন। তখন আদম বললেন, “আসসালাম আলাইকুম” (বা গ্রীবার নমন তোমার প্রতি)। জবাবে ফেরেস্তারা বললেন, “অ আলাইকাসসালাম। রহমতুল্লা (বা তোমাদের প্রতি গ্রীবার নমন, আল্লার অনুগ্রহ থোক)। এইভাবে আন্না মানবজাতির মধ্যে সালাম বিনিময়ের প্রথা চালু করলেন, যা আজও চলে আসছে। তারপর আল্লা আদমকে সমস্ত জিনিসের নাম শিক্ষা দিলেন। একদিন ফেরেস্তাদের সামনে তা প্রকাশ করে বললেন, “যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে এই সব জিনিসের নাম আমাকে বলে দাও”(২৩১)। ফেরেস্তারা তখন বলল যে, পরম প্রজ্ঞাময় আল্লাতায়লা তাদের যা শিক্ষা দিয়েছেন তা ছাড়া তাদের তো আর কোন জ্ঞান নেই। তখন আল্লা আদমকে সব জিনিসের নাম বলতে বললেন এবং হজরৎ আদম এক এক করে সব বলে দিলেন (২/৩৩)। এতে করে আদম মহাজ্ঞানী প্রমাণিত হলেন এবং আল্লা সব ফেরেস্তাদের আদেশ করলেন, “আদমকে সিজদা কর” (২/৩৪)।(নতজানু হয়ে ভূমিতে কপাল ঠেকিয়ে প্রণাম করাকে সিজদা করা বলে।) তখন একমাত্র ইবলিস (অন্য নাম আজাজিল) ছাড়া সকলেই আদমকে