বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:উড়িষ্যার চিত্র - যতীন্দ্রমোহন সিংহ (১৯১১).pdf/১১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
প্রথম অধ্যায়

লোকেরা মিলিত হইয়া থাকে। যে গ্রামে অন্ততঃ একখানি ভাগবত-ঘর নাই, তাহা গ্রামের মধ্যেই গণ্য নহে। এই গ্রামের প্রায় সমস্ত ঘরগুলিরই মাটীর দেওয়াল ও খড়ের ছাউনি।

 নীলকণ্ঠপুর গ্রামে প্রায় একশত ঘর লোকের বাস। তাহার মধ্যে চারিঘর ব্রাহ্মণ, দুই ঘর “করণ”, সাত ঘর “গউড়”, দুই ঘর “তেলী”,এক ঘর “ভণ্ডারি”, দুই ঘর “বঢ়ই,” এক ঘর “ধোপা,” আর অবশিষ্ট প্রায় সকলেই “খণ্ডাইত” এবং “চাষা” বা “তসা”। ব্রাহ্মণের ব্যবসায় পৌরোহিত্য ও ঠাকুরসেবা। করণের ব্যবসায় লেখাপড়া করা, সাধারণতঃ জমিদার ও মহাজনের গোমস্তাগিরি ও অন্যান্য চাকরি। করণ জাতি বাঙ্গালার কায়স্থের অনুরূপ। গউড়ের ব্যবসায় দধিদুগ্ধের কারবার, গরু মহিষ চরাণ এবং পাল্‌কী-“কান্ধান”। অনেক সময়ে, বিশেষতঃ বিদেশে ইহারা চাকরের কাজও করে। কিন্তু “ভণ্ডারি” বা নাপিতেরই তাহা প্রকৃত ব্যবসায়, অবশ্য ক্ষৌরকার্য্য বাদে। বঢ়ই জাতি ব্যবসায়ে সূত্রধর ও লোহার কামার; হয়ত এক ভাই লোহার কাজ করে, আর এক ভাই কাঠের কাজ করে। এইরূপে রজকেরও দুইটি ব্যবসায়, যথা কাপড় ধোয়া ও কাঠ চেরা। জ্বালানী কাঠের জন্য একটি আমগাছ কাটিতে হইলে, যদিও অন্য জাতি তাহার মূল ও ডাল ছেদন করিতে পারিবে কিন্তু তাহা চিরিতে হইলে রজকের শরণাপন্ন হইতে হইবে। ধোপা ভিন্ন অন্য জাতি তাহা চিরিলে তাহার জাতি যাইবে। উড়িষ্যার এই সকল জাতিগত ব্যবসায়ের বড়ই কড়াকড়ি নিয়ম; এক জাতি অন্য জাতির ব্যবসার অবলম্ব