করিলে জাতিচ্যুত হয়। তবে আজকাল এই নিয়ম অনেকটা শিথিল হইয়াছে।
“খণ্ডাইত” শব্দ “খণ্ডা"[১] বা খাঁড়া (খড়গ) হইতে উৎপন্ন ইয়াছে। এই জাতি এক সময়ে, বোধ হয় মারাট্টাদের আমলে, যুদ্ধব্যবসায়ী ছিল। কিন্তু তাহারা অনেক দিন হইল, সেই খণ্ডা ভাঙ্গিয়া লাঙ্গলের ফাল গড়াইয়াছে। এখন ইহাদের অধিকাংশই কৃষিজীবী; তবে যাহাদের বেশী টাকাকড়ি হয়, তাহারা করণের সঙ্গে বিবাহাদি সম্বন্ধ দ্বারা ক্রণে করণ জাতিতে উন্নীত হইতে পারে। যখন খণ্ডাইত থাকে তখন ইহাদের মধ্যে বিধবাবিবাহ চলে, পরে করণ হইলে তাহা রহিত হইয়া যায়।
উল্লিখিত জাতি ছাড়া, এ গ্রামের দক্ষিণভাগে মাঠের দিকে আরও কয়েক ঘর লোক আছে। তাহার মধ্যে এক ঘর জাতিতে, “কণ্ড্রা"—ইহাদের ব্যবসায় চৌকীদারী ও সুযোগ পাইলে চুরি। (তবে সকল কণ্ড্রাই চোর, এ কথা আমি বলি না)। অন্য দুই ঘর “বাউরী”; ইহারা “মূল লাগায়”— অর্থাৎ মজুরী খাটিয়া জীবিকা নির্ব্বাহ করে। সাধারণতঃ প্রতিদিন /০ আনা কি /১০ আনা কিম্বা সেই মূল্যের ধান্য পাইয়া মজুরী খাটে। আর দুই ঘর “চমার”। চমার জাতির ব্যবসায় জুতা সেলাই নহে; উড়িষ্যায় তাহা মুচির কাজ। চমার জাতি তালগাছ ও খেজুরগাছের কারবার করে। তালগাছের কারবার অর্থে তালপাতা কাটিয়া,
- ↑ তাহার প্রমাণ, ইহাদের নামের “সন্তক” বা চিহ্ন “খণ্ডা” যেমন “এহি খণ্ডা সন্তক মধুপধানর সহি।”