বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:উড়িষ্যার চিত্র - যতীন্দ্রমোহন সিংহ (১৯১১).pdf/১৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
প্রথম অধ্যায়

করিতে ভালবাস? না, তাহা নহে। তুমি সকলের উপরে মস্তক উন্নত করিয়া অনন্ত আকাশ পানে তাকাইয়া আছ, তোমার আকাঙ্ক্ষাও কত উচ্চ। তোমার কি কখনও ক্ষুদ্র মানবের অণুকরণ করা সম্ভবে? তোমার মস্তক মুণ্ডিত, ইহাও তোমার সেই মহত্বের পরিচয়! তুমি অকাতরে অম্লানচিত্তে তোমার অঙ্গের পত্রসকল বিতরণ করিয়া উৎকলবাসীর মহোপকার সাধন করিতেছ! তোমার পত্র তিনটি জাতির উপজীবিকাস্বরূপ। চমার জাতি তোমার পত্র কাটিয়া তারা “টাটী” প্রস্তুত করিয়া বিক্রয় করে—সে সকল টাটী আবার কুলকামিনীগণের লজ্জাশীলতার বহিরাবণস্বরূপ। করণজাতি তোমার পত্র লেখাপড়াতে কাগজের ন্যায় ব্যবহার করিয়া জীবিকা নির্ব্বাহ করে। ব্রাহ্মণ জাতি তোমার পাতার পুঁথি পড়িয়া, লোকদিগকে ধর্ম্ম‌কথা শুনাইয়া, তাঁহাদের চাল কলার সংস্থান করিয়া থাকেন। তোমার পত্র না পাইলে জমিদারের “জমা-ওয়াশীল-বাকী,” মহাজনের দাদনের হিসাব, প্রস্বার “পাউতি” (দাখিলা), পঞ্চায়েতের ফয়সালা, বালকের লেখন শিক্ষা[] বৃদ্ধের ভাগবত পাঠ, বিষয়ীর বিষয়লিপি ও প্রেমিকের প্রেমলিপি কোথা হইতে আসিত? ঐ যে কৃষক শ্রাবণের মূষলধারার মধ্যে, তাহার ক্ষেত্রে জলরক্ষা করিবার জন্য, আলি বাঁধিতে বাঁধিতে মনের উল্লাসে উচ্চৈঃস্বরে গান গাইতেছে, উহার সে স্ফূর্ত্তি সে উল্লাস কোথায় থাকিত, যদি উহার মস্তকের


  1. উড়িষ্যাবাসীরা তালপত্রের উপর যে লোহার কবর দিয়া লেখে বা খোঁড়ে (engrave করে) তাহাকে লেখন বলে।