বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:উড়িষ্যার চিত্র - যতীন্দ্রমোহন সিংহ (১৯১১).pdf/১৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
প্রথম অধ্যায়

প্রণয়ন করিয়া প্রাসাদবাসী রাজা হইতে কুটীরবাসী কৃষক পর্য্যন্ত সর্ব্বসাধারণের মধ্যে ভক্তিমাহাত্ম্য প্রচার করিয়া চিরযশস্বী হইয়াছেন, সেই অমূল্য গ্রন্থ কোথায় থাকিত? আর্য্যজাতির জ্ঞান-বিজ্ঞানের অক্ষয়-ভাণ্ডার, আর্যসভ্যতার পূর্বতন ইতিহাসের একমাত্র-আকর, আর্য্যধর্ম্মে‌র একমাত্র ভিত্তি বেদবেদান্ত তোমারই পত্রে লিখিত হইয়া দুর্দ্দ‌মনীয় কালের হস্ত অতিক্রম করিয়া এ পর্য্যন্ত পরিরক্ষিত হইয়া আসিতেছে; হে তালবৃক্ষ! ইহাও তোমার কম গৌরবের কথা নহে। তাই তুমি ধন্য, তুমি সকল বৃক্ষের মধ্যে অশেষ গৌরবান্বিত। ঐ যে একটি কাক তোমার মস্তকরূপ মানমন্দিরের চূড়ায় বসিয়া চারি দিকে তাহার আহারের অন্বেষণ করিবার জন্য, ধীরে ধীরে তোমার দিকে আসিতেছে, উহাকে তুমি বসিতে দাও।

 দেখিতে দেখিতে কাক আসিয়া তরুশিরে উপবেশন করিল এবং কি যেন দেখিয়া “কা কা” রবে চীৎকার করিয়া উঠিল। তাহার সেই কর্ণভেদী রব শুনিয়া, একটি কোকিল বটবৃক্ষের শ্যামল পত্ররাশির মধ্যে তাহার উজ্জ্বল কাল দেহ লুকাইয়া রাখিয়া, কুহু কুহু রবে পঞ্চম তানে, ডাকিয়া উঠিল। সেই কুহুধ্বনি, গাছের পাতা কাঁপাইয়া ধরাতল প্লাবিত করিয়া, নীল আকাশে প্রতিধ্বনির তরঙ্গ তুলিয়া লীন হইয়া গেল। পার্শ্ববর্তী আম্রশাখায় উপবিষ্ট হইয়া একটি মর্কট আমের মুকুল ভাঙ্গিয়া মহানন্দে ভোজন করিতেছিল। সে সেই কুহুধ্বনি শুনিয়া চকিতের ন্যায় “হুপ্


    ইহাকে নাকি প্রেমালিঙ্গন দিয়াছিলেন। ইনি শ্রীমদ্ভাগবতের উড়িয়া ভাষার পদ্যানুবাদ করিয়াছিলেন। এই ভাগবত গ্রন্থ উড়িষ্যার “বেদ।”