বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:উদ্ভিদের চেতনা - সত্যেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত.pdf/১৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
উদ্ভিদের চেতনা

দাও, এমন কি প্রহার কর কখনও কাঁদিবে না; মুখে একটিও শব্দ করিবে না। কিন্তু অভিমানে তাহার সুন্দর নরম ঠোঁট দু’খানি ফুলিয়া ফুলিয়া উঠিবে— নবনীত কোমল দেহখানি বারবার দুলিয়া উঠিবে। তুমি তাহার ছোট্ট মনে যে আঘাত দিয়াছ, তাহার বেদনা সে এমন ভাবে জানাইবে যে, সে অনুঘাতের ব্যথা দ্বিগুণ হইয়া তোমার বুকে ফিরিয়া আসিবে। বুকে জড়াইয়া চুম্বনে চুম্বনে পাগল করিয়া তুলিলে, তবে তাহার অভিমান মিটিবে।

 উদ্ভিদ্‌জাতিটাও তেমনি খোকার মত একটি প্রাণী। আঘাত কর— কাঁপিয়া উঠিবে, জড়সড় হইয়া পড়িবে, সঙ্কুচিত হইয়া এতটুকু হইয়া যাইবে; কণ্ঠ নাই— চীৎকার করিয়া উঠিতে পারিবে না। ব্যথা-বেদনায় বুক ফাটিয়া গেলেও কথায় জানাইবার উপায় নাই; তাই, আমরা উদ্ভিদের প্রতি এমন নির্দয় হইতে পারিয়াছি। তাহাদের ব্যথার কথা যে প্রাণ দিয়া বুঝিতে হয়, কাণ দিয়া শুনিবার নহে।

 কিন্তু সত্যই কি উদ্ভিদ্ আঘাত অনুভব করে? আচার্য্য জগদীশ তো বলেন, করে। তাঁহার কথা অমনি না মানিতে চাহ— দুই একটি পরীক্ষা তোমরাও করিয়া দেখিতে পার। ধর, একটি লজ্জাবতী লতার গাছ আছে। তাহার একটি ছোট্ট পাতা ছোঁও— সব কয়টি পাতা মুহূর্ত্তে বুজিয়া যাইবে। একটু জোরে আঘাত কর— সমস্ত গাছটা মুসড়িয়া