উদ্ভিদ-জ্ঞান কাণ্ডের উপর গোছা গোছা শাদা শাদা ফুল ধরে। যে গাছ অবলম্ব করিয়া ইহা জন্মে, সে গাছ ক্রমে হীনবল হইয়া শুথাইয়া যায়। ইহা গজপিপুলের ন্যায় প্রথমে স্থলবাসী থাকে, পরে সম্পূর্ণরূপে পরভোজী হয়। আকাশবেল (Cassytha—ক্যাসাইথা) উদ্ভিদও আলোক-লতার ন্যায় পরভোজী ও অপরাপর গাছে জড়াইয়া থাকে এবং সেই সকল গাছের ক্ষতি করে। ইহার ও পাতা নাই ও মূল দেখা যায় না। কিন্তু ইহা হলুদবর্ণ না হইয়া ঈষৎ সবুজবর্ণ। বেনে-বৌ (Orobanche— অরোব্যাঞ্চি) নামক পরভোজী উদ্ভিদ বেগুণ, তামাক, সরিষা প্রভৃতি শস্যের ক্ষেত্রে প্রায়ই জন্মে এবং সেই সকল শষ্যের বিশেষ ক্ষতি করে। এই পরভোজী উদ্ভিদ মাটীর নীচে বেগুণ প্রভৃতি গাছের মূলে আবদ্ধ থাকে, মাটীর উপরে ইহার শীষ মাত্র দেখা যায় ও সেই শীষে বহুসংখ্যক ঈষৎ নীলবর্ণ ফুল ফুটে। ইহারও পাতা নাই ও মূল দেখা যায় না। বড় মাদা ও ছোট মাঁদা (Loranthus - লোরেন্থস) নামক যে উদ্ভিদসচরাচর আমগাছের উপর দেখা যায়, তাহাও পরভোজী। আলু, বেগুণ, কচু প্রভৃতি শঙ্খের পাতায় ও অন্যান্য অংশে মাঝে মাঝে নানাপ্রকার রোগ জন্মে দেখা যায়, সেই সকল রোগে অনেক সময়ে ঐ সকল ফসলের বিশেষ ক্ষতি হয়। এইরূপ রোগকে বাঙ্গলায় নানা স্থানে “ধসা ধরা” বলে। “ফঙ্গস” (Fungus) নামক নানাজাতীয় নিম্নশ্রেণী পরভোজী উদ্ভিদের আক্রমণে এই সকল রোগ জন্মে ও ফসলের বিশেষ অনিষ্ট করে। ৮। মরা বা পচা জন্তু অথবা উদ্ভিদ বা তাহাদের ভগ্নাবশেষ আশ্রয় করিয়া যে সকল উদ্ভিদ জন্মে ও বৃদ্ধি পায়, তাহাদিগকে মলভোজী বলা যাইতে পারে। ইংরেজীতে ইহাদিগকে “্যাপরোফাইট” (Saprophyte) বলে। উচ্চশ্রেণী উদ্ভিদের মধ্যে মলভোজীর সংখ্যা অতি বিরল। NAA!
পাতা:উদ্ভিদ-জ্ঞান (প্রথম পর্ব্ব) - গিরিশচন্দ্র বসু (১৯২৩).pdf/১১
অবয়ব