উদ্ভিদ-শিশুর বীজ-পত্র। এই শিশু উদ্ভিদ ও ধাতু লইয়াই ধানের বীজ প্রস্তুত। এই বীজের খোসা এত পাতলা ও সূক্ষ্ম যে, তাহা সহজে ধরা যায় না। ঢেঁকীতে চাল পরিষ্কার করিবার সময় যে আবর্জ্জনা বাহির হয়, তাহাই বীজের খোসা। ধানের শীষে এক একটি ফুল হইতে এক একটি ফল বা ধান হয়, কিন্তু সকল ফল বা ধানে বীজ হয় না। যে ফলে বা ধানে বীজ হয় না, তাহাকে আগড়া বলে। সেই আগড়া ফলের খোসা, বীজের খোসা নহে। উপরে ধানের যে আবরণের কথা বলিয়াছি, তাহা এই আগড়া। তাহা হইলেই বুঝিলে, ধান প্রকৃত বীজ নহে, ইহা ফল এবং বীজ ইহার মধ্যে নিহিত থাকে। ভুট্টা, গম, যব প্রভৃতি শস্যের দানা ধানের দানার সহিত এই সকল বিষয়ে সমান। লক্ষ্য করিয়া দেখ, এই সকল বীজে উদ্ভিদ-শিশুতে একটি মাত্র বীজপত্র। আর উপরে যে সকল বীজের আলোচনা করা হইয়াছে, তাহাদের দুইটি করিয়া বীজপত্র। ধান হইতে চাল প্রস্তুত করিবার সময়, শিশু-উদ্ভিদ খসিয়া পড়ে, ও সেই স্থানটা খেঁদা দেখায়।
৮। বীজান্তর্গত শিশু-উদ্ভিদের দুই অথবা এক বীজ পত্র অনুসারে, উদ্ভিদসকল দুই প্রধান বিভাগে বিভক্ত হইয়া থাকে। এই দুই বিভাগে বিভক্ত উদ্ভিদগণকে ইংরেজীতে ক্রমান্বয়ে “ডাই-কটিলিডন” (Di-cotyledon) ও “মনো-কটিলিডন” (Mono-cotyledon) বলে। বাঙ্গলাতে উহাদিগের আমরা দ্বিবীজ-পত্রী ও একবীজ-পত্রী নাম দিলাম। দেহ-রচনা বিচারে বীজের এই প্রভেদ সবিশেষ দ্রষ্টব্য। কারণ, এই প্রভেদ অবলম্বন করিয়া উদ্ভিদ সকল যে দুই প্রধান শ্রেণীতে বিভক্ত হয়, তাহারা কেবল বীজ-পত্রের সংখ্যায় নহে, অন্যান্য বিষয়েও বিভিন্ন, অর্থাৎ তাহাদের মূল, কাণ্ড, পত্র এবং পুষ্পের গঠনও বিভিন্ন। এই বিভিন্নতার কথা পরে আলোচিত হইবে।