বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:উদ্ভিদ-জ্ঞান (প্রথম পর্ব্ব) - গিরিশচন্দ্র বসু (১৯২৩).pdf/২৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

৩য় অধ্যায়—মূল

 ১। মূল সচরাচর মৃত্তিকার মধ্যে শাখা-প্রশাখা বিস্তার করিয়া বৃদ্ধি পাইয়া থাকে। বিস্তারের সময় ইহাকে বহু বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করিতে হয়। এ জন্য মূলের কোমল অগ্রভাগ এক প্রকার আবরণে ঢাকা থাকে। ইংরেজীতে এই আবরণকে “রুটক্যাপ”
১১শ চিত্র ক্ষুদি পানা
(root-cap) বলে। বাঙ্গলায় ইহাকে মুলের খাপ বলিব (১১শ চিত্র)। এই খাপ থাকায় মূলের কোমল অগ্রভাগ মৃত্তিকার বাধা অতিক্রম করিয়া বিস্তৃত হইতে পারে। দরজীগণ শেলাই করিবার সময় আঙ্গুল-রক্ষা করিবার জন্য যেমন ইহার অগ্রভাগে ধাতুময় “থিম্বল” অর্থাৎ আবরণ পরে, উদ্ভিদগণও সেইরূপ মূলের কোমল অগ্রভাগে খাপ ধারণ করে। খাপের পরেই, উক্ত মূলের গায়ে বহুসংখ্যক ঘনসন্নিবিষ্ট সূক্ষ্ম ও ক্ষুদ্র কেশাকার অবয়ব দেখা যায়। ইংরেজীতে ইহাদিগকে
১২শ চিত্র মূলকেশ
“রুট-হেয়ার” (root-hair) কহে (১২শ চিত্র)। বাঙ্গলায় ইহাদিগকে মূলকেশ বলিব। এই সকল মূল-কেশ মাটির ভিতরের সূক্ষ্মানুসূক্ষ্ম ফাঁকের মধ্যে প্রবেশ করিয়া উদ্ভিদকে মাটিতে দৃঢ়রূপে আবদ্ধ করিয়া রাখে। সাবধানে মূলসুদ্ধ চারাগাছ উপড়াইলে, এই সকল মূল-কেশে ছোট ছোট মাটির গুটি জড়াইয়া থাকিতে দেখা যায়। উহাদিগকে সহজে মূল-কেশ হইতে ছাড়ান যায় না। মূল-কেশ হইতে এক প্রকার