উভয় সঙ্কট।
১৭
আমি। তাহারা মাঠ পার হইরা বস্তীর গলির রাস্তা দিয়া বড় রাস্তায় গিয়াছে। বড় রাস্তা হইতে গাড়ী করিয়া কোথায় গিয়াছে, তাহা আর ধরিতে পারা গেল না।
বড় সাহেব। আর কিছু জান?
আমি। আসামীও একজন ছদ্মবেশী সম্ভ্রান্ত লোক।
বড় সাহেব। কিরূপে জানিলে?
আমি। আসামী সেই স্ত্রীলোকের সম্ভ্রম বাঁচাইবার জন্য নিজে ধরা দিয়াছে;—মনে করিলে আমাদের আসিবার পূর্ব্বে সে অনায়াসে পলাইতে পারিত। যে একজন স্ত্রীলোকের সম্ভ্রম রক্ষার জন্য নিজের জীবনকে বিপন্ন করিতে পারে, তাহাকে সাধারণ খুনী আসামী বলিয়া মনে কেমন বিশ্বাস হয় না। আর ধরা পড়িবামাত্র সে চীৎকার করিয়া—“পুলিশ হাম্কো পাকড়া হ্যায়”—এ কথা বলিবে কেন? নিশ্চয়ই অন্যকে সতর্ক করিবার জন্যই সে এইরূপ ভাবে চীৎকার করিয়া সে কথা বলিয়াছিল। “আমায় পুলিশে ধরিয়াছে”—এ কথা বলিবার নিশ্চয়ই কোন উদ্দেশ্য ছিল, আমার ত এইরূপ মনে হয়। খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করিতে গেলে সচরাচর যেমন মূলে স্ত্রীলোক প্রায়ই দেখিতে পাওয়া যায়, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই খুনের মূলেও সেইরূপ স্ত্রীলোক আছে। আর এই যে আসামী, এ একজন সাধারণ খুনী আসামী নয়—ছদ্মবেশী কোন অসাধারণ লোক।”
আমার কথা শেষ হইলে বড় সাহেব একবার ইন্স্পেক্টার সাহেবের মুখের দিকে চাহিলেন। ইন্স্পেক্টার সাহেব সে চাহনির অর্থ বুঝতে পারিয়া কহিলেন,—“বাবুর মাথা, বোধ হয়, হঠাৎ খারাপ হইয়া গিয়াছে। তা না হইলে এরূপ প্রলাপ