পাতা:ঊর্ম্মিমুখর.djvu/১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পাহাড় নীলকণার ওদিকের পাহাড়ের বড় বড় সামনের চাইগুলি নীল আকাশের পটভূমিতে লেখা আছে। ছোট একটা পাহাড়ী ঝর্ণ একজায়গায়। ঝর্ণ পার হয়ে দু’ধারে শাল, মহুয়া, তমালের বন, বুনো শিউলি গাছও আছে। একটা ভাল জায়গা দেখে নিয়ে আমরা চা খাবে ঠিক করলুম। বন সামনের দিকে ক্রমেই ঘন হচ্চে, ক্রমে একধারে উচু পাহাড়ের দেওয়াল, বড় বড় বনের গাছে ভরা আর বা দিকে অনেক নীচে একটা ঝর্ণা বয়ে যাচ্চে ঘনসন্নিবিষ্ট গাছপালার মধ্য দিয়ে। আমরা দূর থেকে ওর জলের শব্দ শুনতে পেয়েছিলুম। সবাই মিলে নেমে গিয়ে বড় বড় গাছ ও মোট কাছির মত লতা দিয়ে তৈরী প্রকৃতির একটা ছায়াশীতল ঘন কুঞ্জবনে একখানা বড় চৌরস কালে শিলাখণ্ডের ওপর গিয়ে বসে চা পান করা গেল। টাঙি হাতে একজন সাঁওতাল জঙ্গলে কাঠ কাটুতে যাচ্চে, বল্লে-বেশী দেরি করবেন না, একটু পরে এখানে বুনো হাতী জল খেতে মাম্বে। গাছপালার মাথায় মাথায় শরতের অপরাষ্ট্রের রাঙ্গ; রোদ। সামনে পেছনে বড় বড় পাথর, একখানার ওপর আর একখানা আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে-ওদিকে আরও ঘন জঙ্গলের দিকে ঝর্ণার পথ ধরে খানিকট বেড়িয়েও এলুম। বেল পড়লে রওনা হয়ে ছায়ভরা পাৰ্ব্বত্যপথে হেঁটে আমরা এলুম নীলঝর্ণার উপত্যকার মুখ পৰ্য্যন্ত । ডাইনে সিদ্ধেশ্বর চুংরি মাথা খাড়া করে আছে। আশেপাশের বন্য সৌন্দৰ্য্য সন্ধ্যার ছায়ায় আরও সুন্দরতর হয়েচে—সেইদিনই যে সুদূর পথে ইছামতীতে আসবার সময় আমাদের ভিটেটাতে গিয়ে মায়ের চরণখান দেখেছিলুম— যে কথা মনে পড়েচে। নীরদবাবু ও আমি নীল ঋণ বেড়িযে অনেক রাত্রে বাংলোতে ফিরি । সকালে উঠে সুবর্ণরেখার পুলের ধারে মাছ কিনতে এলুম। সকালট বড় চমৎকার, নিৰ্ম্মেঘ নীল আকাশের দিকে চাইলে কত কালের কত সব কথা যেন মনে পড়ে। পুল থেকে চারি ধারে চেয়ে দেখি মাছ বা জেলের সম্পর্কও নেই কোনো ধারে । নীচে নেমে ছায়ায় একটা শিলাখণ্ডে অনেকক্ষণ বসে রইলুম—ভাবচি সুপ্রভার পত্রের আজ একটা উত্তর দেব। ওখান থেকে ফিরে এসে বাংলোর পেছনে যে পাহাড়ী নদী—তাতে নাইতে গেলু আমি