পাতা:ঊর্ম্মিমুখর.djvu/২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেশের বন এত ভাল লাগে। মুক্ষিত জ্যোৎস্না রাতে কোথায় এমন পুষ্পিত তৃণপর্ণের মন মাতানে সৌরভ । কাল বিকেলে রেড়াতে বেড়াতে কুঠার মাঠের বনশোভা দেখে আরও বেশী করে আমার থিওরীটার সত্যতা উপলব্ধি করলুম অর্থাৎ আমাদের এ অঞ্চলের ছপালার বৈচিত্র্য ও সৌন্দৰ্য্য সিংডুম ও সেন্টাল ইণ্ডিয়ার অরণ্যের শোভার অপেক্ষ অনেক বেশী। কত কি লতা, কত কি বিচিত্র বনফুল, কত ধরণের পত্রবিদ্যাল—এত বৈচিত্র্য কোথায় ওসব দেশের অরণ্যে ? আমি রাখা মাইনস্ থেকে বারো মাইল পাহাড় ও জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে সবটাই হেঁটে মুসাবনি রোড পর্যন্ত গিয়েচি, সিংডুমের বিখ্যাত সারেও ফরেস্ট দেখেচি, গবৰ্ণমেণ্ট প্রোটেক্টেড ফরেস্টের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি । সেখানে বন খুব ঘন ও বহুবিস্তৃত ব্লটে কিন্তু বনশোভা নিম্নবঙ্গের বনের মত নয়। ও অঞ্চলের বড় বড় গাছের মধ্যে শাল, কেন্দ, আসান, পলাশ ও মাঝে মাঝে আমলকী ও বহুশেফালী এই ক'টা প্রধান । বন্তলতা আমার চোখে অন্তত: পড়েনি। কোনো কোনো স্থানে শিমূল বৃক্ষ আছে। সারবান কাঠ বাংলাদেশের বনে তত নেই যত ওদেশে আছে কিন্তু আমার বলবার উদ্দেশু বাংলা দেশটাতে যদি আজ সারেণ্ডা রিজার্ভ ফরেস্টের মত একটা অরণ্য গড়ে উঠত, তার বনবৈচিত্র্য ও সৌন্দৰ্য্য ও নিবিড়ত অনেক বেশী হ’ত,--শ্ৰীনগরের ও ছ’ঘরের পথের ধারের বন দেখে এ ধারণা আমার মনে আরও বদ্ধমূল হয়েচে । তবে বাংলার বনে পাহা নদী বা বর্ণ নেই, ইতস্তত: বিক্ষিপ্ত শিলাখণ্ড নেই—তেমনি ও সব বনের পথে এত পার্থী নেই, বিচিত্র বর্ণের বনপুষ্পের সুবাস নেই। এ আমি স্বীকার করি যদি বাংলা দেশের বনভূমির পিছনে থাকৃত দুরবিস্তৃত নীল গিরিমালা, মাঝে মাঝে যদি কানে আসতে পাহাড়ী ঝর্ণার কুলুকুলু শব্দ, শিলাসন আস্তৃত থাকতে স্নিগ্ধ ছায়া ঝোপের নীচে, চরত ময়ূর, চরত হরিণনন্দন—উপলাকীর্ণ বষ্টনদীর শিলাময় দুই তটে স্তবকে স্তবকে স্বৰাগভরা বনকুসুম ফুটে থাকত—গিরি সামদেশে কেড়ে ধনসন্নিবিষ্ট বাশবন—তবে এ বন আরও সুন্দর হত।