পাতা:ঊর্ম্মিমুখর.djvu/৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

ঊর্ম্মিমুখর

দিকে নিয়ে যায়। বুড়ে ছকু পাড়ই এই সময় তার স্ত্রী আদাড়িকে সঙ্গে করে নদীতে গা ধুতে এল। সে অন্ধকারে চোখে দেখতে পাবে না বলে স্ত্রী ওর সঙ্গে এলেচে । সকালে উঠে কুঠার, মাঠে বেড়াতে গিয়ে আজ বড় আনন্দ পেলাম। দুপুরে পাটুশিমূলে রওনা হওয়া গেল পায়ে হেঁটে । কবিরাজমশায় পাটশালায় ছেলে পড়াচ্চেন, তার কাছে বসে একটু গল্প করে বট অশ্বথের ছায়াতর পথ দিয়ে মোল্লাহাটির খেয়া ঘাটে গিয়ে পার হলাম। কেউটে পাড়ার কাছে গিয়েচি এক জায়গায় অনেকগুলো বেলগাছ একসঙ্গে দাড়িয়ে। সেখানে বড় বৃষ্টি এল। পূর্বদিকের আকাশ কৃষ্টধোয়া, নীল, পরিষ্কার-সেই ইন্দ্র নীল রংয়ের আকাশের পটভূমিতে দূর গ্রামের তাল খেজুরের সারি, বাশবনের শীর্ষ, কি মৎকার দেখাচ্চে। আর একদিকে ঘন কালো বর্ষার মেঘ জুমেচে । গোরকপুরের মোড় বেকে কু দীপুরের বাওড়ের ওপারের রাণীনগর বলে ছোট একটা চাষা গায়ের দৃশ্য ঠিক যেন ছবির মত। এখানে একজন বুদ্ধাকে পথ জিগ্যেস করলুম। তিনি বল্লেন—তোমার নাম বিভূতি ? সাতবেড়েতে একবার গিয়েছিলে না ? আমি বল্লুম-ই। আপনি কি করে চিনলেন ? তিনি নিজের পরিচয় দিলেন না । গোরকপুরের একটা দোকানে মনীন্দ্র চাটুয্যের ভট্টচায্যির সঙ্গে দেখা। সেখানে বসে একটু গল্প করেই আবার পথে বেরিয়ে পড়ি কি ঘন বন পথের দুধারে! বড় বড় লতা কালো কালো গাছের । গুড়ির গায়ে উঠেচে—এই কয়দিনের বৃষ্টিতেই গাছের তলায় বনের ছোট ছোট গাছপালার জঙ্গল বেধে গিয়েচে । ‘বেী-কথা ক’ ডাক্‌চে চারিধারে। কেউটে পাড়ার গায়ে পথের ধারের একটা সেদালি ফুল গাছে এই আষাঢ় মাসের প্রায় মাঝামাঝি সময়েও অজস্র ফুল দেখেছি। পাটশিমূলের মধ্যে কি ভীষণ tropical forest এর রাজত্ব ! ছোট ছোট জাম ফলে আছে বুনো জামগাছে—বড় বড় লতা-বনের মধ্যেটা মিশ কালো। গাটশিম্লের মোহিনী কাকার সঙ্গে বাওড়ের ওপারে একটা চাষাগায়ে দেখা হোল। তিনি “আমার সঙ্গে গেলেন প্রায় বাগান গ: পৰ্য্যস্ত। পিসিমার বাড়ী গেলুঃ তখন সন্ধ্যা হয়েচে । পিসিমার সঙ্গে অনেকদিন পরে দেখা । দুজনে অনেক