পাতা:ঋতু-উৎসব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Ꮌ 8Ꮌ ফাল্গুনী গৃহ যাব ফুটে আর মুদে পুন:পুন: সে লক্ষ্মীরে ত্যাগ কর, শুন মূঢ় শুন । অহো, আপনার উপদেশের এক ফুৎকারেই আশাপ্রদীপের জলন্ত শিখা নিৰ্ব্বাপিত হয়ে যায়। আমাদের আচাৰ্য্য বলেচেন না— দন্তং গলিতং পলিতং মুণ্ডং তদপি ন মুঞ্চতি আশাভাণ্ডং ! মহারাজ, আশার কথা যদি তুল্লেন তবে বারিধি থেকে আর একটি চৌপদী শোনাই— শৃঙ্খল বাধিয়া রাখে এই জানি সবে, আশার শৃঙ্খল কিন্তু অদ্ভূত এ ভবে। সে যাহারে বাধে সেই ঘুরে মরে পাকে, সে-বন্ধন ছাড়ে যারে স্থির হ’য়ে থাকে। । হায় হায় অমূল্য আপনার বাণী ! শ্রুতিভূষণকে এক সহস্র স্বর্ণমুদ্র এখনি—ও কি মন্ত্রী, আবার কা’রা গোল ক’বৃচে ? সেই দুভিক্ষগ্রস্ত প্রজারা । ওদের এখনি শাস্ত হ’তে বলে । তাহ’লে, মহারাজ, শ্রুতিভূষণকে ওদের কাছে পাঠিয়ে দিন না—আমরা ততক্ষণ যুদ্ধের পরামর্শটা— না, না, যুদ্ধ পরে হবে, শ্রুতিভূষণকে ছাড়তে পার্চিনে । মহারাজ, স্বর্ণমুদ্রা দেবার কথা বলছিলেন কিন্তু সে দান যে ক্ষয় হয়ে যাবে। বৈরাগ্যবারিধি লিখচেন— স্বর্ণদান করে যেই করে দুঃখ দান, যত স্বর্ণ ক্ষয় হয় ব্যথা পায় প্রাণ । শত দাও, লক্ষ দাও, হ’য়ে যায় শেষ, শূন্ত ভাও ভরি শুধু থাকে মনঃক্লেশ ।