পাতা:ঋতু-উৎসব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঋতু-উৎসব । ১৫০ ৷ আহা শরীর রোমাঞ্চিত হ’লো। প্রভূ কি তাহলে— না আমি সহস্রমূদ্র চাইনে! দিন দিন একটু পদধূলি দিন । সহস্র মুদ্র চান না। এত বড়ো কথা ! মহারাজ, এই সহস্র মুদ্রা অক্ষয় হ’য়ে যাতে মহারাজের পুণ্যফলকে অসীম করে, আমি এমন কিছু চাই ! গোধনসমেত আপনার ঐ কাঞ্চনপুর-জনপদটুি যদি ব্ৰহ্মত্রদান করেন কেবলমাত্র ঐটুকুতেই আমি সন্তুষ্ট থাকবো ; কারণ বৈরাগ্যবারিধি ব’লচেন— বুঝেছি শ্রুতিভূষণ, এর জন্যে আর বৈরাগ্যবারিধির প্রমাণ দরকার নেই। মন্ত্রী, কাঞ্চনপুর-জনপদটি যাতে শ্রুতিভূষণের বংশে চিরন্তন—আবার কি, বারবার কেন চীৎকার ক’বৃচে ? চীৎকারটা বারবার কারচে বটে কিন্তু কারণটা একই রয়ে গেছে ! ওরা সেই মহারাজের দুর্ভিক্ষ-কাতর প্রজা। মহারাজ, ব্রাহ্মণী মঙ্গর কে বলতে ব'লেচেন তিনি তার সর্বাঙ্গে মহারাজের যশোঝঙ্কার ধ্বনিত করতে চান, কিন্তু আভরণের অভাববশতঃ শব্দ বড়োই ক্ষীণ হ’য়ে বাজ চে । - মন্ত্রী ! মহারাজ ! । ব্রাহ্মণীর আভরণের অভাবমোচন ক’বৃতে যেন বিলম্ব না হয়। আর মন্ত্রীমশায়কে ব'লে দিন, আমরা সৰ্ব্বদাই পরমার্থচিস্তায় রত, বৎসরে বৎসরে গৃহসংস্কারের চিন্তায় মন দিতে হ’লে চিত্তবিক্ষেপ হয় ; অতএব রাজ-শিল্পী যদি আমার গৃহটি, সুদৃঢ় ক’রে নির্মাণ ক’রে দেয় তাহ’লে তা’র তলদেশে শাস্তমনে বৈরাগ্য-সাধন করতে পারি। মন্ত্রী, রাজশিল্পীকে যথাবিধি আদেশ ক’রে দাও । মহারাজ, এবৎসর রাজকোষে ধনাভাব ।