পাতা:ঋতু-উৎসব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Ꮌ©Ꮌ সে তো প্রতিবংসরেই শুনে আস্চি। মন্ত্রী, তোমাদের উপর ভার, ধন বৃদ্ধি করবার ; আর আমার উপর ভার, অভাব বৃদ্ধি করবার। এই দুইয়ের মিলে সন্ধি ক’রে হয় ধনাভাব। মহারাজ, মন্ত্রীকে দোষ দিতে পারিনে। উনি দেখাচেন আপনার অর্থ, আর আমরা দেখচি আপনার পরমার্থ; সুতরাং উনি যেখানে দেখতে পাচ্ছেন অভাব, আমরা সেইখানে দেখতে পাচ্চি ধন। বৈরাগ্যবারিধিতে লিথ চেন— রাজকোষ পূর্ণ হয়ে তবু শূন্তমাত্র, যোগ্য হাতে যাহা পড়ে লভে সৎপাত্র । পাত্র নাই ধন আছে, থেকেও না থাকা, পাত্র হাতে ধন, সেই রাজকোষ পাকা । আহা হা! আপনাদের সঙ্গ অমূল্য । কিন্তু মহারাজের সঙ্গ কত মূল্যবান, শ্রুতিভূষণমশায় তা বেশ জানেন। তাহ’লে আসুন শ্রুতিভূষণ, বৈরাগ্যসাধনের ফর্দ যা দিলেন, সেট। সংগ্রহ করা যাক ! চলুন তবে চলুন, বিলম্বে কাজ নেই। মন্ত্রী এই সামান্য বিষয় নিয়ে যখন এত অধীর হয়েছেন তখন ওঁকে শান্ত ক’রে এখনি আবার ফিরে আসচি। আমার সর্বদা ভয়, পাছে আপনি রাজাপ্রয় ছেড়ে অরণ্যে চলে যান ! মহারাজ, মনটা মুক্ত থাকলে কিছুই ত্যাগ করতে হয় না—এই রাজগৃহে যতক্ষণ আমার সন্তোষ আছে ততক্ষণ এই আমার অরণ্য। এক্ষণে তবে আসি । মন্ত্রী, চলো—চলো । ঐ যে কবিশেখর আসছে—আমার তপস্যা ভাঙলে বুঝি ! ওকে ভয় করি! ওরে পাকাচুল, কান ঢেকে থাকুরে, কবির বাণী যেন প্রবেশপথ না পায় ! - ( উভয়ের প্রস্থান )