পাতা:ঋতু-উৎসব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঋতু-উৎসব ". Ꮌ©☽ মহারাজ, আপনার এই কবিকে নাকি বিদায় ক’বৃতে চান ? কবিত্ব যে বিদায়-সংবাদ পাঠালে এখন কবিকে রেখে হবে কী ! সংবাদটা কোথায় পৌছলে ? ঠিক আমার কানের উপর ! চেয়ে দেখো ! পাকাচুল ? ওটাকে আপনি ভাব চেন কী ? যৌবনের খামকে মুছে ফেলে শাদা করার চেষ্টা । কারিকরের মতলব বোঝেন নি। ঐ শাদা ভূমিকার উপরে আবার নূতন রং লাগবে। ” কই রঙের আভাস তো দেখিনে । সেটা গোপনে আছে। শাদার প্রাণের মধ্যে সব রঙেরই বাসা । চুপ, চুপ, চুপ করে, কবি, চুপ করো ! মহারাজ, এ যৌবন স্নান যদি হ’লো তো হোক না! আরেক যৌবনলক্ষ্মী আগচেন, মহারাজের কেশে তিনি তার শুভ্র মল্লিকার মালা পাঠিয়ে দিয়েচেন—নেপথ্যে সেই মিলনের আয়োজন চ'ল্‌চে। আরে, আরে, তুমি দেখুচি বিপদ বাধাবে, কবি ! যাও যাও, তুমি ধাও —ওরে শ্রুতিভূষণকে দৌড়ে ডেকে নিয়ে আয়। র্তাকে কেন, মহারাজ ? . বৈরাগ্য-সাধন করবো । সেই খবর শুনেই তো ছুটে এসেছি, এ সাধনায় আমিই তো আপনার সহচর। তুমি ? - হা মহারাজ, আমরাই তো পৃথিবীতে আছি মানুষের আসক্তি মোচন ক’রবার জন্য। ከቶ বুঝতে পারলুম না। এতদিন কাব্য শুনিয়ে এলুম তৰু বুঝতে পারলেন না? আমাদের কথার মধ্যে বৈরাগ্য, স্বরের মধ্যে বৈরাগ্য, ছন্দের মধ্যে বৈরাগ্য।