পাতা:ঋতু-উৎসব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


〉(t○ ফাল্গুনী সেইজন্যেই তো লক্ষ্মী আমাদের ছাড়েন, আমরাও লক্ষ্মীকে ছাড় বার জন্যে যৌবনের কানে মন্ত্র দিয়ে বেড়াই ! তোমাদের মন্ত্রটা কী ? আমাদের মন্ত্র এই যে, ওরে ভাই, ঘরের কোণে তোদের থলি থালি অঁাকড়ে বসে থাকিস্নে—বেরিয়ে পড় প্রাণের সদর রাস্তায়, ওরে যৌবনের বৈরাগীর দল ! সংসারের পথটাই বুঝি তোমার বৈরাগ্যের পথ হ’লে ? তা নয় তো কী মহারাজ ? সংসারে যে কেবলি সরা, কেবলি চলা ; তা’রই সঙ্গে সঙ্গে যে-লোক একতারা বাজিয়ে নৃত্য করতে করতে কেবলি সরে, কেবলি চলে, সেই তো বৈরাগী, সেই তো পথিক, সেই তো কবিবাউলের চেলা । তাহ’লে শান্তি পাবো কী ক’রে ? শান্তির উপরে তো আমাদের একটুও আসক্তি নেই, আমরা যে বৈরাগী । কিন্তু ধ্রুব সম্পদটি তো পাওয়া চাই । ধ্রুব সম্পদে আমাদের একটুও লোভ নেই, আমরা যে বৈরাগী। সে কি কথা ?—বিপদ বাধাবে দেখচি ! ওরে শ্রুতিভূষণকে ডাক । আমরা অব্রুব মন্ত্রের বৈরাগী। আমরা কেবলি ছাড়তে ছাড়তে পাই, তাই ধ্রুবটাকে মানিনে । এ তোমার কী রকম কথা ? পাহাড়ের গুহা ছেড়ে যে নদী বেরিয়ে পড়েচে তা’র বৈরাগ্য কি দেখেন নি মহারাজ ? সে অনায়াসে আপনাকে ঢেলে দিতে-দিতেই আপনাকে পায়। নদীর পক্ষে ধ্রুব হচ্চে বালির মরুভূমি—তা’র মধ্যে সেঁধলেই বেচারা গেলো। তা’র দেওয়া যেমনি ঘোচে অম্নি তা’র পাওয়াও ঘোচে । 1. ঐ শোনো কবিশেখর, কান্না শোনে। ঐ তো তোমার সংসার !