পাতা:ঋতু-উৎসব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঋতু-উৎসব . S(; 8 ওরা মহারাজের দুভিক্ষকাতর প্রজা । আমার প্রজা ? বল কী কবি ? সংসারের প্রজা ওরা। এ দুঃখ কি আমি সৃষ্টি ক’রেচি ? তোমার কবিত্বমন্ত্রের বৈরাগীরা এ দুঃখের কী প্রতিকার করতে পারে বলে তো ! মহারাজ, এ দুঃখকে তো আমরাই বহন ক’বৃতে পারি! আমরা যে নিজেকে ঢেলে দিয়ে ব’য়ে চলেচি। নদী কেমন করে ভার বহন করে দেখেচেন তো ? মাটির পাকা রাস্তাই হ’লো যাকে বলেন ধ্রুব, তাই তো ভারকে কেবলি সে ভারী করে তোলে ; বোঝা তা’র উপর দিয়ে আৰ্ত্তনাদ ক’বৃতে করতে চলে, আর তা’রও বুক ক্ষত বিক্ষত হ’য়ে যায়। নদী আনন্দে ব’য়ে চলে, তাই তো সে আপনার ভার লাঘব ক’রেছে বলেই বিশ্বের ভার লাঘব করে । আমরা ডাক দিয়েচি সকলের সব সুখ-দুঃখকে চলার লীলায় ব’য়ে নিয়ে যাবার জন্যে। আমাদের বৈরাগীর ডাক। আমাদের বৈরাগীর সর্দার যিনি, তিনি এই সংসারের পথ দিয়ে নেচে চলেচেন—তাই তো বসে থাকতে পারিনে,— . পথ দিয়ে কে যায় গো চলে’ ড়াক দিয়ে সে যায়। আমার ঘরে থাকাই দায়। যাকগে শ্রুতিভূষণ ! ওহে কৰিশেখর, আমার কী মুস্কিল হ’য়েচে জানো ? তোমার কথা আমি এক বিন্দুবিসর্গও বুঝতে পারিনে অথচ তোমার স্বরটা আমার বুকে গিয়ে বাজে। আর শ্রতিভূষণের ঠিক তার উণ্টো ; তা’র কথাগুলো খুবই স্পষ্ট বোঝা যায় হে,—ব্যাকরণের । সঙ্গেও মেলে—কিন্তু সুরটা—সে কী আর বলবো! ; মহারাজ, আমাদের কথা তো বোঝবার জন্তে হয় নি, বাজার জন্যে হয়েচে!