পাতা:ঋতু-উৎসব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S6 (t ফাল্গুনী এখন তোমার কাজটা কী বলে তো কবি ? i মহারাজ, ঐ যে তোমার দরজার বাইরে কান্না উঠেচে ঐ কারার মাঝখান দিয়ে এখন ছুটতে হবে । ওহে কবি, বলে কী তুমি! এ সমস্ত কেজো লোকের কাজ, দুর্ভিক্ষের মধ্যে তোমরা কী করবে ? কেজো লোকের কাজ বেস্তুরো ক’রে ফেলে, তাই স্বর বাধ বার জন্যে আমাদের ছুটে আসতে হয় ! * ওহে কবি, আর একটু স্পষ্ট ভাষায় কথা কও! মহারাজ, ওরা কৰ্ত্তব্যকে ভালবাসে ব’লে কাজ করে,—এইজন্যে ওরা আমাদের গাল দেয়,—বলে নিষ্কৰ্ম্মা, আমরা ওদের গাল দিই,—বলি নিৰ্জ্জীব । + কিন্তু জিংটা হ’লে| কা’র ? আমাদের, মহারাজ, আমাদের । । তা’র প্রমাণ ? পৃথিবীতে যা কিছু সকলের বড়ো, তার প্রমাণ নেই। পৃথিবীতে যত কবি, যত কবিত্ব—সমস্ত যদি ধুয়ে মুছে ফেলতে পারো তাহলেই প্রমাণ হবে, এতদিন কেজো লোকেরা তাদের কাজের জোরটা কোথা থেকে পাচ্ছিলো, তাদের ফসলক্ষেতের মূলের রস জুগিয়ে এসেচে কারা! মহারাজ, আপনার দরজার বাইরে ঐ যে কান্না উঠেচে সে কান্না থামায় কা’রা ? যারা বৈরাগ্যবারিধির তলায় ডুব মেরেচে তারা নয়, যারা বিষয়কে অঁাকড়ে ধ’রে রয়েচে তারা নয়, যারা কাজের কৌশলে হাড় পাকিয়েছে তারাও নয়, যার কৰ্ত্তব্যের শুষ্ক রুদ্রাক্ষের মালা জীপচে তারাও নয়, অপৰ্যাপ্ত প্রাণকে বুকের মধ্যে পেয়েচে বলেই জগতের কিছুতে যাদের উপেক্ষা নেই, জয় করে তারা;—ত্যাগ করেও তারাই, বাস্থতে জ'নে ত’র, ম'বৃতেও জানে