পাতা:ঋতু-উৎসব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তবে তোমার ও রচনাটা ব'ল্‌চে কী ? ও ব’ল্চে, আমি আছি! শিশু জন্মাবামাত্র চেচিয়ে ওঠে, সেই কান্নার মানে জানেন মহারাজ ? শিশু হঠাৎ শুনতে পায় জল-স্থল-আকাশ তা’কে চারদিক থেকে বলে উঠেচে—“আমি আছি !”—তা’রই উত্তরে ঐ প্রাণটুকু সাড়া পেয়ে বলে’ ওঠে—“আমি আছি!” আমার রচনা সেই সদ্যোজাত শিশুর কান্না, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের ডাকের উত্তরে প্রাণের সাড়া । •. তা’র বেশি আর কিছু না ? কিছু না । আমার রচনার মধ্যে প্রাণ ব’লে উঠেচে,—সুখে দুঃখে, কাজে বিশ্রামে, জন্মে মৃত্যুতে, জয়ে-পরাজয়ে, লোক লোকাস্তরে—“জয়, এই ‘আমি আছি’র জয়, জয়, এই আনন্দময় ‘আমি-আছি’র জয় ।” ওহে কবি, তত্ত্ব না থাকৃলে আজকের দিনে তোমার এ জিনিস চলবে না। সে কথা সত্য মহারাজ ! আজকের দিনে আধুনিকেরা উপার্জন করতে চায় উপলব্ধি করতে চায় না! ওরা বুদ্ধিমান ! তা হ’লে শ্রোত কাদের ডাকা যায় ? আমার রাজবিদ্যালয়ের নবীন ছাত্রদের ডাকবো কি ? না মহারাজ, তারা কাব্য শুনেও তর্ক করে ! নতুন শিং ওঠা হরিণ শিশুর মতো ফুলের গাছকেও গুতো মেরে মেরে বেড়ায় ! তবে ? ডাক দেবেন যাদের চুলে পাক ধ’রেচে। সে কি কথা কবি ? ই মহারাজ, সেই প্রৌঢ়দেরই যৌবনটি নিরাসক্ত যৌবন । তারা ভোগবতী পার হয়ে আনন্দলোকের ডাঙা দেখতে পেয়েচে । তা’রা আর ফল চায় না, ফ’লতে চায়।