পাতা:ঋতু-উৎসব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিশ্বপুরাণে এই গীতের পালা আছে! ঋতুর নাট্যে বৎসরে বৎসরে শীত-বুড়োটার ছদ্মবেশ খসিয়ে তা’র বসন্ত-রূপ প্রকাশ করা হয়, দেখি পুরাতনটাই নূতন। এ তো গেলো গানের কথা, বাকিটা ? বাকিটা প্রাণের কথা । সে কি-রকম ? যৌবনের দল একটা বুড়োর পিছনে ছুটে চলেছে। তা'কে ধরবে বলে’ পণ। গুহার মধ্যে ঢুকে যখন ধরলে তখন— তখন কী দেখলে ? কী দেখলে সেটা যথাসময়ে প্রকাশ হবে। কিন্তু একটা কথা বুঝতে পারলুম না । তোমার গানের বিষয় আর তোমার নাট্যের বিষয়টা আলাদা না কি ? না মহারাজ-বিশ্বের মধ্যে বসন্তের যে লীলা চলচে, আমাদের প্রাণের মধ্যে যৌবনের সেই একই লীলা । বিশ্বকবির সেই গীতিকাব্য থেকেই তো ভাব চুরি করেচি । তোমার নাটকের প্রধান পাত্র কে কে ? এক হচ্চে সর্দার । সে কে ? যে আমাদের কেবলই চালিয়ে দিয়ে যাচ্চে। আর একজন হচ্চে চন্দ্ৰহাস । সে কে ? যাকে আমরা ভালোবাসি—আমাদের প্রাণকে সেই প্রিয় ক’রচে। আর কে আছে ? দাদা—প্রাণের আনন্দটাকে যে অনাবশ্বক বোধ করে’, কাজটাকেই যে সার মনে ক’রেচে। । >>