পাতা:ঋতু-উৎসব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঋতু-উৎসব ১৬৬ হের হের অবনীর রঙ্গ, গগনের করে তপোভঙ্গ । হাসির আঘাতে তা’র মৌন রহে না আর কেঁপে কেঁপে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে । বাতাস ছুটিছে বনময় রে, ফুলের না জানে পরিচয় রে । তাই বুঝি বারে বারে কুঞ্জের দ্বারে দ্বারে শুধায়ে ফিরিছে জনে জনে । ফাগুন লেগেছে বনে বনে ৷ ফাগুনের গুণ আছেরে, ভাই, গুণ আছে ! বুঝলি কি করে ? নইলে আমাদের এই দাদাকে বাইরে টেনে আনে কিসের জোরে ? তাই তো—দাদা আমাদের চৌপদীছন্দের বোঝাই নৌকো—ফাগুনের গুণে বাধা পড়ে কাগজ কলমের উন্টে মুখে উজিয়ে চলেছে। । চন্দ্রহাস। ওরে ফাগুনের গুণ নয়রে! আমি চন্দ্রহাস, দাদার তুলট কাগজের । হলদে পাতাগুলো পিয়াল-বনের সবুজ পাতার মধ্যে লুকিয়ে রেখেছি ; দাদা খুঁজতে বের হয়েছে। iبيليي তুলট কাগজগুলো গেছে আপদ গেছে, কিন্তু দাদার শাদা চাদরটা তো কেড়ে নিতে হচ্চে । - চন্দ্রহাস। তাই তো, আজ পৃথিবীর ধূলোমাটি পৰ্যন্ত শিউরে উঠেছে, আর এ পর্য্যন্ত দাদার গায়ে বসন্তর আমেজ লাগলো না! : দাদা। আহ। কী মুস্কিল ! বয়েস হয়েছে যে ! . পৃথিবীর বয়েস অন্তত তোমার চেয়ে কম নয়, কিন্তু নবীন হতে ওর লজ্জা নেই।