পাতা:ঋতু-উৎসব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৬৭ ফাঙ্কনী চন্দ্রহাস। দাদা, তুমি বসে বসে চৌপদী লিখচে, আর এই চেয়ে দেখ সমস্ত জলস্থল কেবল নবীন হবার তপস্যা ক’বৃচে। l দাদা, তুমি কোটরে বসে কবিতা লেখ কি ক’রে ? দাদা। আমার কবিতা তো তোদের কবিশেখরের কল্পমঞ্জরীর মতো সোর্থীন কাব্যের ফুলের চাষ নয় যে, কেবল বাইরের হাওয়ায় দোল খাবে। এতে সার আছেরে, ভার আছে । যেমন কচু । মাটির দখল ছাড়ে না। দাদা। শোন তবে বলি,— ঐরে দাদা এবার চৌপদী বের করবে ! এলোরে এলো চৌপদী এলো! আর ঠেকানো গেলো না । ভো ভো পথিকবৃন্দ, সাবধান দাদার মত্ত চৌপদী চঞ্চল হ’য়ে উঠেছে। চন্দ্রহাস। না দাদা, তুমি ওদের কথায় কান দিয়ে না। শোনাও তোমার চৌপদী ! কেউ না টিকৃতে পারে আমি শেষ পৰ্য্যন্ত টিকে থাকবে। আমি ওদের মতো কাপুরুষ নই। আচ্ছা বেশ, আমরাও । যেমন করে পারি শুনবোই। খাড়া দাড়িয়ে শুনবো। পালাবো না । চৌপদীর চোট যদি লাগে তো বুকে লাগবে, পিঠে লাগবে না। কিন্তু দোহাই দাদা, একটা ! তা’র বেশি নয় । দাদা। আচ্ছা, তবে তোরা শোন! বংশে শুধু বংশী যদি বাজে , বংশ তবে ধ্বংস হবে লাজে ! বংশ নিঃস্ব নহে বিশ্বমাঝে যে হেতু সে লাগে বিশ্বকাজে ।