পাতা:ঋতু-উৎসব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঋতু-উৎসব । . 8"לצ কোটাল। না তার দরকার নেই। আর বেশি বোঝবার আশা রাখিনে । চন্দ্ৰহাস। সবাই আমাদের বোঝবার আশা ছেড়ে দিয়েছে। কোটাল। এমন হ’লে তোমাদের চ'ল্‌বে কি ক’রে ? চন্দ্রহাস। আর তো কিছুই চলিবার দরকার নেই—শুধু আমরাই চলি । কোটাল। (মাঝির প্রতি) পাগল রে! উন্মাদ পাগল ! চন্দ্রহাস। এই যে এতক্ষণ পরে দাদা আসচে। কি দাদা, পিছিয়ে পড়েছিলে কেন ? চন্দ্রাস। ওরে আমরা চলি উনপঞ্চাশ বায়ুর মতে, আমাদের ভিতরে পদার্থ কিছুই নেই; আর দাদা চলে শ্রাবণের মেঘ-মাঝে মাঝে থমকে দাড়িয়ে ভারমোচন ক’বৃতে হয়। পথের মধ্যে ওকে শ্লোকরচনায় পেয়েছিলো । দাদা। চন্দ্র স্বাস, দৈবাং তোমুর মুখে এই উপমাট উপাদেয় হয়েচে । ওর মধ্যে একটু সার কথা আছে। আমি ওট চৌপদীতে গেঁথে নিচ্চি । চন্দ্র হাস। সু, না, কথা থাক্ দাদা ! আমরা কাজে বেরিয়েছি। তোমার চৌপদীর চার পা, কিন্তু চ’ল বার বেলা এতো বড়ো খোড়া জন্তু জগতে দেখতে পাওয়া যায় না। দাদা। আপনি কে ? আমি ঘাটের মাঝি । দাদা। আর আপনি ? . আমি পাড়ার কোটাল । দাদা। ত৷ উত্তম হ’লো—আপনাদের কিছু শোনাতে ইচ্ছা করি। বাজে জিনিস না –কাজের কথা । । মাঝি। বেশ, বেশ । আহা, বলেন, বলেন ! কোটাল। আমাদের গুরু বলেছিলেন, ভালো কথা ব’লবার লোক অনেক মেলে কিন্তু ভালো কথা যে মরদ খাড়া দাড়িয়ে শুনতে পারে তা’কেই সাবাস । ওটা ভাগ্যের কথা কি না । তা বলে ঠাকুর, বলো !