পাতা:ঋতু-উৎসব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঋতু-উৎসব ১৯২ ওরে আমার ক্রমে বিশ্বাস হচ্চে সর্দারই আমাদের ঠকিয়েছে। সে - আমাদের মিথ্যে ফাকি দিয়ে খাটিয়ে নেয়, নিজে সে কুড়ের সর্দার। ফিরে চল্ রে। এবার সর্দারের সঙ্গে লড়বো। ব’ল্বে, আমরা চলবে না—দুই পা কাধের উপর মুড়ে বসবো। প৷ দুটাে লক্ষ্মীছাড়া পথে পথেই ঘুরে মরলো। হাত দু'টােকে পিছনের দিকে বেঁধে রাখবো। পিছনের কোনো বালাই নেইরে, যতো মুস্কিল এই সামনেটাকে নিয়ে। শরীরে যতোগুলো অঙ্গ আছে তা’র মধ্যে পিঠটাই সত্যি কথা বলে। সে বলে চিৎ হয়ে পড়, চিং হ’য়ে পড় ! কাচা বয়সে বুকটা বুক ফুলিয়ে চলে, কিন্তু পরিণামে সেই পিঠের উপরেই ভর-পড়তেই হয় চিংহ'য়ে। গোড়াতেই যদি চিৎপাত দিয়ে সুরু করা যেতো, তাহ’লে মাঝখানে উৎপাত থাকতো না রে । আমাদের গ্রামের ছায়ার নীচে দিয়ে সেই যে ইরা নদী ব’য়ে চলেছে তা'র কথা মনে পড়চে ভাই। সেদিন মনে হয়েছিল, সে ব’লচে, চল, চল চল,—আজ মনে হ’চ্চে ভুল শুনেছিলুম, সে ব’লছে ছল, ছল, ছল, সংসারটা সবই ছল রে ! সে কথা আমাদের পণ্ডিত গোড়াতেই ব’লেছিলো । এবারে ফিরে গিয়েই একেবারে সোজ। সেই পণ্ডিতের চণ্ডিমগুপে। পুথি ছাড়া আর এক পা চলা নয় ? কি ভুলটাই ক'রেছিলুম! ভেবেছিলুম চলাটাই বাহাদুরি । কিন্তু না চলাই যে গ্ৰহ নক্ষত্র জল হাওয়া সমস্তর উণ্টো । সেটাই তে তেজের কথা হ’লো । - ওরে বীর, কোমর বাধ, রে—আমরা চলবে না। ওরে পালোয়ান, তাল ঠুকে বসে পড়, আমরা চলবে না।