পাতা:ঋতু-উৎসব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


&o > ফাল্গুনী এখানে আকাশটা যেন যাবার বেলাকার বন্ধুর মতো মুখের দিকে তাকিয়ে আছে । - যারা সেখানে ব’ল্ছিলো “চল চল", তারা এখানে ব’ল্‌চে 'যাই যাই।” কথাটা একই, সুরটা আলাদা। মনটার ভিতরে কেমন ব্যথা দিচ্চে, তবু লাগছে ভালো । ঝাউগাছের বীথিকার ভিতর দিয়ে কোথা থেকে এই একটা নদীর স্রোত চলে আসচে, এ যেন কোন দুপুররাতের চোখের জল । পৃথিবীর দিকে এমন করে কখনো আমরা দেখিনি। উৰ্দ্ধশ্বাসে যখন সামনে ছুটি তখন সামনের দিকেই চোখ থাকে, চারপাশের দিকে নয় । বিদায়ের বাঁশিতে যখন কোমল ধৈবত লাগে তখনি সকলের দিকে চোখ মেলি । আর দেখি বড়ো মধুর। যদি সবাই চলে চলে না যেতো তাহ’লে কি কোনো মাধুরী চোখে পড়তো ? চলার মধ্যে যদি কেবলি তেজ থাকৃতে তাহলে যৌবন শুকিয়ে যেতো । তা'র মধ্যে কান্না আছে তাই যৌবনকে সবুজ দেখি । এই জায়গাটতে এসে শুনতে পাচ্চি জগৎটা কেবল “পাবো” “পাবো” ব’ল্চে না—সঙ্গে সঙ্গেই ব’লচে, “ছাড় বো, ছাড়বো।” স্বাক্টর গোধূলিলগ্নে পাবো”র সঙ্গে "ছাড়বো”র বিয়ে হয়ে গেছে রে— তাদের মিল ভাঙলেই সব ভেঙে যাবে। অন্ধ বাউল আমাদের এ কোন দেশে আনলে ভাই ? ঐ তারাগুলোর দিকে তাকাচ্চি আর মনে হ’চ্চে যুগে যুগে যাদের ফেলে এসেছি তাদের অনিমেষ দৃষ্টিতে সমস্ত রাত একেবারে ছেয়ে রয়েচে । ফুলগুলোর মধ্যে কা’র ব’ল্চে “মনে রেখো, মনে রেখো”, তাদের নাম তো মনে নেই কিন্তু মন যে উদাস হয়ে ওঠে।