পাতা:ঋতু-উৎসব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তু-উৎসব । २४० ।। ঐ বাউলটা চুপ করে বসে থাকে, কথা কয় না, ভালো লাগচে না। ও কেমন যেন একটা অলক্ষণ ! যেন কালবৈশাখীর প্রথম মেঘ। দাও ভাই, দাও, ওকে বিদায় করে দাও ! না, ন, ও বসে আছে তবু একটা ভরসা আছে। দেচোন। ওর মুখে কিছু ভয় নেই! মনে হ’চ্চে ওর কপালে যেন কি সব খবর আসচে। ওর সমস্ত গা যেন অনেক দূরের কা’কে দেখতে পাচ্চে। ওর আঙুলের আগায় চোখ ছড়িয়ে আছে। k. ওকে দেখলেই বুঝতে পারি কে আস্চে অন্ধকারের ভিতর দিয়ে পথ করে। ঐ দেখ জোড়হাত করে’ উঠে দাড়িয়েছে। পূবের দিকে মুখ করে কা’কে প্রণাম ক’বৃচে। ওখানে তো কিছুই নেই—একটু আলোর রেখাও না। একবার জিজ্ঞাসাই করো না, ও কি দেখাচে-কা’কে দেখ চে! না, নী, এখন ওকে কিছু বোলো না। । ‘.. আমার কি মনে হচ্চে জান ? যেন ওর মধ্যে সকাল হয়েছে। যেন ওর ভুরুর মাঝখানে অরুণের আলো খেয়া নৌকোটির মতো এসে ঠেকেচে । ওর মনটা ভোর বেলাকার আকাশের মতো চুপ। এখনি যেন পার্থীর গানের ঝড় উঠবে—তা’র আগে সমস্ত থমথমে । ঐ একটু একটু একতারাতে ঝঙ্কার দিচ্চে, ওর মন গান গাচ্চে। চুপ করে, চুপ করে ঐ গান ধরেছে। - বাউলের গান হবে জয়, হবে জয়, হবে জয়-রে ওহে বীর, হে নিৰ্ভয়!