পাতা:ঋতু-উৎসব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঋতু-উৎসব _ (te উপনন্দ - (সন্ন্যাসীর মুখের দিকে ক্ষণকাল চাহিয়া, পায়ের ধূলা লইয়া । আজ ছুটির দিন–কিন্তু আমার ঋণ আছে, শোধ করতে হবে তাই আজ কাজ করছি। ঠাকুরদাদা উপনন্দ, জগতে তোমার আবার ঋণ কিসের ভাই ? উপনন্দ ঠাকুরদাদা, আমার প্রভু মারা গিয়েছেন ; তিনি লক্ষেশ্বরের কাছে ঋণী ; সেই ঋণ আমি পুথি লিখে শোধ দেবো । ঠাকুরদাদা হায়, হায়, তোমার মত কঁাচ বয়সের ছেলেকেও ঋণ শোধ করতে হয়, আর এমন দিনেও ঋণশোধ? ঠাকুর, আজ নতুন উত্তরে হাওয়ায় ওপারে কাশের বনে ঢেউ দিয়েছে, এপারে ধানের ক্ষেতের সবুজে চোখ একেবারে ডুবিয়ে দিলে, শিউলি বন থেকে আকাশে আজ পূজোর গন্ধ ভরে উঠেছে, এরি মাঝখানে ঐ ছেলেটি আজ ঋণশোধের আয়োজনে বসে গেছে, এও কি চক্ষে দেখা যায় ? ; , ; 摯 轟 সন্ন্যাসী বল কী, এর চেয়ে সুন্দর কি আর কিছু আছে ? ঐ ছেলেটিই তো আজ সারদার বরপুত্ৰ হ’য়ে তার কোল উজ্জল ক'রে বসেছে। তিনি তার আকাশের সমস্ত সোনার আলো দিয়ে ওকে বুকে চেপে ধরেছেন। আহা, আজ এই বালকের ঋণশোধের মতো এমন শুভ্র ফুলটি কি কোথাও ফুটেছে, চেয়ে দেখ তো। লেখ, লেখ, বাবা, তুমি লেখ, আমি দেখি। তুমি পংক্তির পর পংক্তি লিখছ, আর ছুটির পর ছুটি পাচ্ছে,—তোমার এত ছুটির আয়োজন