পাতা:ঋতু-উৎসব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


(૧ শারদোৎসব তাড়িয়ে দিলেন। সেদিন সকালে সেইখানে বসে আমার প্রভু বাণী । বাজাচ্ছিলেন। তিনি তখনি মন্দির ছেড়ে এসে আমার গলা জড়িয়ে । ধরলেন—বল্লেন, এসে বাবা, আমার ঘরে এসো। সেই দিন থেকে ছেলের মতে তিনি আমাকে কাছে রেখে মানুষ করেছেন—লোকে তাকে কত কথা বলেছে, তিনি কান দেননি। আমি তাকে বলেছিলেম, প্রভু, আমাকে বীণা বাজাতে শেখান, আমি তা হলে কিছু কিছু উপার্জন ক’রে আপনার হাতে দিতে পারবো। তিনি বল্লেন, বাবা, এ বিদ্যা পেট ভরাবার নয় ; আমার আর এক বিদ্যা জানা আছে তাই তোমাকে শিখিয়ে দিচ্ছি। এই ব’লে আমাকে রং দিয়ে চিত্র করে পুঁথি লিখতে শিখিয়েছেন। যখন অত্যন্ত অচল হয়ে উঠতো তখন তিনি মাঝে মাঝে বিদেশে গিয়ে বীণা বাজিয়ে টাকা নিয়ে আসতেন। এখানে তাকে সকলে পাগল ব’লেই জানতো । সন্ন্যাসী স্বরসেনের বীণা শুনতে পেলেম না, কিন্তু বাবা উপনন্দ, তোমার কল্যাণে র্তার আর এক বীণা শুনে নিলুম, এর স্বর কোনোদিন ভুলবো না। বাবা, লেখ, লেখ । ছেলেরা ঐরে ঐ আসছে! ঐরে লখী, ঐরে লক্ষ্মীপেঁচ । ( দৌড় ) লক্ষেশ্বর আ সৰ্ব্বনাশ ! যেখানটিতে আমি কৌটো পুতে রেখেছিলুম ঠিক সেই জায়গাটিতেই যে উপনন্দ বসে গেছে! আমি ভেবেছিলেম ছোড়াটা বোকা বুঝি, তাই পরের ঋণ শুধতে এসেছে। তা তো নয় দেখছি! পরের ঘাড় ভাঙাই ওর ব্যবসা। আমার গজমোতির খবর পেয়েছে। একটা সন্ন্যাসীকেও