পাতা:ঋতু-উৎসব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আরে কী বলিস লখা? আমার ঠাকুরকে অপমান ? : এই রং-বাট নোড়া দিয়ে তোমার মুখ গুড়িয়ে দেবো না? টাকা হয়েছে বলে অহঙ্কার? কাকে কী বলতে হয় জানো না! । (সন্ন্যাসীর পশ্চাতে লক্ষেশ্বরের লুক্কায়ন ) সন্ন্যাসী আরে করো কী ঠাকুরদাদা, করে কী বাবা! লক্ষেশ্বর তোমাদের চেয়ে ঢের বেশী মানুষ চেনে! যেমূনি দেখেছে অম্নি ধরা পড়ে গেছি। ভণ্ড সন্ন্যাসী যাকে বলে ! বাবা লক্ষেশ্বর, এত দেশের এত মানুষ ভুলিয়ে এলেম, তোমাকে ভোলাতে পারলেম না । 歐 লক্ষেশ্বর না, ঠিক ঠাওরাতে পাচ্ছিনে। হয় তো ভাঁ করিনি। আবার শাপ দেবে, কি, কী করবে ! তিনখানা জাহাজ এখনো সমুদ্রে আছে। (পায়ের ধূলা লইয়া) প্রণাম হই ঠাকুর,—হঠাৎ চিনতে পারিনি। বিরূপাক্ষের মন্দিরে আমাদের ঐ বিকটানন্দ ব’লে একটা সন্ন্যাসী আছে, আমি বলি সেই ভগুটাই বুঝি! ঠাকুর্দা, তুমি এক কাজ করে, সন্ন্যাসী ঠাকুরকে আমার ঘরে নিয়ে যাও, আমি ওঁকে কিছু ভিক্ষে দিয়ে দেবো। আমি চল্লেম বলে। তোমরা এগোও । ঠাকুরদাদা তোমার বড় দয়া ! তোমার ঘরের এক মুঠো চাল নেবার জন্যে ঠাকুর সাত সিন্ধু পেরিয়ে এসেছেন!