পাতা:ঋতু-উৎসব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৬৯ শারদোৎসব সেদিন সব চাষী গৃহস্থর বনে গিয়ে সীতার পূজা ক’রে সকলে মিলে । বনভোজন করে। সেই চাষাদের সঙ্গে একসঙ্গে পাত পেড়ে খাবার জন্যে বিজয়ারিত্যের প্রাণটা কাদে। রাজাই হোকৃ আর যাই হোক, ভিতরে যে । চাষাটা আছে সেটা যাবে কোথায় ? সেবারে তো সে রাজবেশ ছেড়ে ওদের সঙ্গে বসে যাবার জন্তে ক্ষেপে উঠেছিলো। কিন্তু ওর মন্ত্রী আর চাকরবাকরদের মনে রাজাগিরির উচ্চ ভাব ওর চেয়ে অনেক বেশী আছে। তারা । হাতে পায়ে ধ'রে বললে, এ কখনোই হ’তে পারে না। অর্থাৎ তাদের এই ভয়টা আছে যে, ঐ ছদ্মবেশটা খুলে ফেললেই আসল মানুষটা ধরা পড়ে যাবে। এই জন্যে বিজয়াদিত্যকে নিয়ে তা’র বড়ো ভয়ে ভয়েই থাকে— কোন দিন তার সমস্ত ফাস হ’য়ে যায়, এই এক বিষম ভাব না ! রাজা ঠাকুর, তুমি সব ফাস ক’রে দাও। ও যে মিথ্যে রাজা, ভূয়ে রাজা, সে যেন আর ছাপা না থাকে। ওর বড়ো অহঙ্কার হয়েছে। সন্ন্যাসী আমি তো সেই চেষ্টাতেই আছি। তুমি নিশ্চিন্ত থাকে, যতক্ষণ না আমার অভিপ্রায় সিদ্ধ হয়, আমি সহজে ছাড়বে না। রাজা 2 | ( প্রস্থান ) ( উপনন্দের প্রবেশ ) উপনন্দ ঠাকুর, আমার মনের ভার তো গেলো না ! সন্ন্যাসী কী হ’লো বাবা ?