পাতা:ঋতু-উৎসব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঋতু-উৎসব । १० উপনন্দ মনে ক’রেছিলেম, লক্ষেশ্বর যখন আমাকে অপমান ক’রেছে তখন ওর কাছে আমি আর ঋণ স্বীকার করবে না। তাই পুথিপত্র নিয়ে ঘরে ফিরে গিয়েছিলেম। সেখানে আমার প্রভুর বীণাটি নিয়ে তার ধূলো ঝাড়তে গিয়ে তারগুলি বেজে উঠলো—অমনি আমার মনটার ভিতর যে কেমন হ’লে সে আমি বলতে পারিনে। সেই বীণার কাছে লুটিয়ে পড়ে বুক ফেটে আমার চোখের জল পড়তে লাগলো। মনে হ’লো, আমার প্রভূর কাছে অপরাধ করেছি। লক্ষেশ্বরের কাছে আমার প্রভূ ঋণী হয়ে রইলেন আর আমি নিশ্চিন্ত হ’য়ে আছি! ঠাকুর, এ তো আমার কোনোমতেই সহ হচ্চে না! ইচ্ছা ক’বৃছে আমার প্রভুর জন্তে আজ আমি অসাধ্য কিছু একটা করি! আমি তোমাকে মিথ্যা বলছিনে, তার ঋণ শোধ করতে যদি আজ প্রাণ দিতে পারি তা হলে আমার আনন্দ হবে,—মনে হবে, আজকের এই সুন্দর শরতের দিন আমার পক্ষে সার্থক হ’লে । সন্ন্যাসী বাবা, তুমি যা ব’ল্চে সত্যই ব’ল্‌চে। উপননা ঠাকুর, তুমি তো.অনেক দেশ ঘুরেছে, আমার মতো অকৰ্ম্মণ্যকেও হাজার কার্যাপণ দিয়ে কিনতে পারেন এমন মহাত্মা কেউ আছেন ? ' তা হ’লেই ঋণটা শোধ হ’য়ে যায় । এ নগরে যদি চেষ্টা করি তা হ’লে বালক ব’লে, ছোট জাত ব’লে সকলে আমাকে খুব কম দাম দেবে। সন্ন্যাসী . না বাবা, তোমার মূল্য এখানে কেউ বুঝবে না। আমি ভাব চি কি, যিনি তোমার প্রভুকে অত্যন্ত আদর ক'বৃতেন সেই বিজয়াদিত্য ব’লে রাজাটার কাছে গেলে কেমন হয় ?