পাতা:ঋতু-উৎসব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঋতু-উৎসব ,” 8 রাজাও না সম্রাটুও না ঐ মাটিই সব ফাকি দিয়ে নেবে। তোমাকেও নেবে, আমাকেও নেবে। . তা নিকৃগে, কিন্তু আমার কেবলই ভাবনা হয় আমি মরে গেলে পর কোথা থেকে কে এসে হঠাৎ হয় তো খুঁড়তে খুড়তে ওটা পেয়ে যাবে। যাই হোক ঠাকুর, কিন্তু তোমার মুখে ঐ সোনার পদ্মর কথাটা আমার কাছে বড়ো ভালো লাগলো। আমার কেমন মনে হচ্চে ওটা তুমি খুজে বের করতে পারবে। কিন্তু তা হোকৃগে, আমি তোমার চেলা হ’তে পারবো না –প্ৰণাম। to ( প্রস্থান ) (ঠাকুরদাদার প্রবেশ ) সন্ন্যাসী ঠাকুর্দা, আজ অনেক দিন পরে একটি কথা খুব স্পষ্ট বুঝতে পেরেছি-- সেটি তোমাকে খুলে না বলে থাকৃতে পারুচিনে। ঠাকুরদাদা আমার প্রতি ঠাকুরের বড়ে দয়া ! সন্ন্যাসী আমি অনেক দিন ভেবেছি জগৎ এমন আশ্চৰ্য্য সুন্দর কেন ? কিছুই ভেবে পাইনি। আজ স্পষ্ট প্রত্যক্ষ দেখতে পাচ্চি—জগৎ আনন্দের ঋণ শোধ করছে! বড় সহজে ক’বৃচে না, নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে সমস্ত ত্যাগ ক’রে ক’বৃছে! সেই জন্যেই ধানের ক্ষেত এমন সবুজ ঐশ্বর্ষ্যে ভ’রে উঠেছে, বেতসিনীর নিৰ্ম্মল জল এমন কানায় কানায় পরিপূর্ণ। কোথাও সাধনার এতটুকু বিশ্রাম নেই, সেই জন্যেই এত সৌন্দৰ্য্য।