বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:এখানে দিনের রং বদলায় - আশিসরঞ্জন নাথ (২০২৪).pdf/৩২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

আমার বাবা ও শালিক পাখি

শালিক পাখির বিস্কুটের টুকরো খাওয়া দেখতে আমার বেশ লাগে। মনে হয় আমার স্বর্গত পিতৃদেব নাতিকে দেওয়া কথা রক্ষা করছেন।

বার্ধক্যের দিনগুলি বাবা জানালার ধারের বিছানায় শুয়ে বসে দিন কাটাতেন। পাশের টেবিলে গীতা। মাঝে মাঝে গীতার পাতা ওলটাতেন। বিড় বিড় করে গীতার শ্লোক পাঠ করতেন। আর অন্য সময়ে জানালা দিয়ে পাখি দেখতেন, দেখতেন গাছপালা, যত দূর চোখ দিয়ে ঠাহর করতে পারেন।

দু’টো শালিক পাখি যেন পোষা হয়ে গেছিল তাঁর। সকালবেলা পাখি দু’টো এসে কিচিরমিচির করত। বাবা জানালা দিয়ে বিস্কুটের টুকরো ছুঁড়ে দিতেন উঠোনে। পাখিগুলো খুব আনন্দে খেতো। বাবা দেখে খুশি হতেন। যে খুশির কোনও সংজ্ঞা হয় না।

এক দিন দেখা গেল দুটো শালিকের সঙ্গে আরও দু’টো। এদের বাচ্চা। এখনও ঠিকমতো ঠোঁটে খেতে শেখেনি। বাচ্চা শালিক দেখে বাবা খুশিতে চেঁচিয়ে বলেছিলেন দেখো দেখো, শালিক বাচ্চা নিয়ে এসেছে। সেই থেকে চারটি শালিক বাবার নিত্য দিনের অতিথি। শালিকদের বিস্কুট ছুঁড়ে দেওয়া দেখে আমার ছেলে কৌতূহলে জিজ্ঞেস করেছিল ‘দাদু তুমি কেন রোজ শালিকদের খেতে দাও’।

বাবা নাতিকে বলেছিলেন, ‘পাখিদের খেতে দিতে হয় দাদু ভাই। এক দিন আমিও শালিক পাখি হয়ে তোমার ছুঁড়ে দেওয়া বিস্কুটের টুকরো খেয়ে তৃপ্ত হব।’

এদের জন্য আমি নিয়মিত বিস্কুট কিনে আনি...

এখানে দিনের রং বদলায় ● ৩২