পাতা:এপিক্‌টেটসের উপদেশ - জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

বিরহ বিচ্ছেদ।

৫১


যেরূপ ভাবে গড়িয়াছেন, ইহাকে তুমি ঠিক সেইভাবে রক্ষা করিবে;— ইহাকে ভক্তিমান, শ্রদ্ধাবান্, উন্নত, শান্ত, দান্ত, নির্ভয় করিয়া রাখিবে। কিন্তু তুমি তাহা কিছুতেই করিবে না। কি আক্ষেপের বিষয়!

বিরহ বিচ্ছেদ।

 ১। আর একজনের দোষে তোমার অনিষ্ট হইবে, এরূপ মনে করিও না। অন্যের সঙ্গে থাকিয়া তুমি অসুখী হইবে এইজন্য তুমি জন্মাও নাই; প্রত্যুত, অন্যের সঙ্গে থাকিয়া সুখী হইবে—সৌভাগ্যবান হইবে এই জন্যই তুমি জন্মগ্রহণ করিয়াছ। যদি কেহ দুর্ভাগ্য ও অসুখী হয়, সে জানিবে তাহার স্বকৃত কর্ম্মের ফল। কারণ, ঈশ্বর সকল মনুষ্যকেই সুখী করিবার জন্যই সৃষ্টি করিয়াছেন—সকলকেই ভাল অবস্থায় স্থাপন করিয়াছেন। এই অভিপ্রায়ে, তিনি প্রত্যেক ব্যক্তিকে এমন কতকগুলি জিনিস দিয়াছেন যাহা তাহার নিজের; এবং আর কতকগুলি জিনিস দিয়াছেন যাহা তাহার নিজের নহে। যে সকল বস্তু প্রাকৃতিক বাধার অধীন, অনিবার্য্য শক্তির অধীন, বিনাশের অধীন, তাহা তাহার নিজস্ব নহে, ইহার বিপরীতই তাহার নিজস্ব বস্তু। যিনি নিয়ত আমাদের রক্ষণাবেক্ষণ করিতেছেন, পিতার ন্যায় আমাদিগকে পালন করিতেছেন, সেই ঈশ্বর, এমন কতকগুলি জিনিস আমাদের নিজস্ব করিয়া দিয়াছেন, যাহার উপর আমাদের প্রকৃত মঙ্গল নির্ভর করে।

 ২। “কিন্তু আমি অমুককে ছাড়িয়া আসিয়াছি, সেই জন্য তিনি কষ্ট পাইতেছেন”। যে সকল বস্তু তাঁহার আপনার নহে, তাহাদিগকে আপনার বলিয়া কেন তিনি মনে করেন? তোমাকে দেখিয়া যখন তাঁর আনন্দ হয়, তখন কি তিনি ভাবেন না, তুমি মর্ত্যজীব—কোন্ দিন অন্য