পাতা:এপিক্‌টেটসের উপদেশ - জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

বিধাতার অনাগত-বিধান।

 পশুর শরীরের জন্য যাহা কিছু আবশ্যক তাহা আপনা হইতেই তাহারা পায়, তাহার জন্য কোন আয়োজন করিতে হয় না, খাদ্য পানীয়ের জন্য, শয়ন স্থানের জন্য তাহাদের ভাবিতে হয় না। তাহাদের জুতা চাই না, শয্যা চাই না, বস্ত্র চাই না। কিন্তু আমাদের এ সমস্ত চাই। তাহারা নিজের জন্য জীবন ধারণ করে না—মানব-সেবার জন্যই জীবন ধারণ করে। তাহাদের জন্য যদি এই সব আবশ্যকীয় জিনিসের আয়োজন করিতে হইত, তাহা হইলে আমাদের কতই অসুবিধা হইত। গো মেযাদির লোমরূপ গাত্রাবরণ, খুর রূপ উপানৎ যদি আমাদের যোগাইতে হইত, তাহা হইলে আমরা কি মুস্কিলেই পড়িতাম। মানুষের সেবায় নিযুক্ত হইবে বলিয়া, প্রকৃতি-জননী তাহাদিগকে পূর্ব্ব হইতেই সর্ব্বতোভাবে সুসজ্জিত করিয়া রাখিয়াছেন।

 প্রকৃতি-রাজ্যে এমন একটি জিনিসও দেখা যায় না যাহাতে বিধাতার পূর্ব্বচিন্তা ও পূর্ব্বায়োজন লক্ষিত না হয়। শ্রদ্ধাবান্ কৃতজ্ঞ ব্যক্তি ইহা সর্ব্বত্রই উপলব্ধি করিয়া থাকেন। বড় বড় বিষয় ছাড়িয়া দেও—শুধু ছোটখাটো বিষয় আলোচনা করিয়া দেখিলেই ইহা উপলব্ধি হইবে। ঘাস হইতে কিরূপে দুগ্ধ উৎপন্ন হয়, দুগ্ধ হইতে কিরূপে পনির উৎপন্ন হয়, চর্ম্ম হইতে কিরূপে পশম উৎপন্ন হয়, একবার ভাবিয়া দেখ। এই সমস্তের মধ্যে কাহার হস্ত দেখা যায়?—কাহার কার্য্য-কল্পনা লক্ষিত হয়? তুমি কি বলিবে—“কাহারও নহে?” কি বিষম ধৃষ্টতা! কি মূঢ়তা!

 এই কথা বুঝিতে পারিলে, সেই পরম দেবতার মহিমা কীর্ত্তনে আমরা কি ক্ষণমাত্র বিরত হইতে পারি? যখন আমরা আহারের