পাতা:ঐতিহাসিক চিত্র (প্রথম বর্ষ) - নিখিলনাথ রায়.pdf/১০৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সীতারামের ধৰ্ম্মপ্ৰাণতা। বিশেষত্ব নহে। সীতারামচরিত্রের যদি কোন বিশেষত্ব থাকে,-তাহা দেবসেবা এবং পরসেবা। এ প্রস্তাবে আমরা তাঁহাই প্রদর্শন করিতে চেষ্টা করিব । সীতারাম উচ্চরাঢ়ীয় কায়স্থবংশে জন্মগ্রহণ করেন। তঁহার পূর্বপুরুষের আদিনিবাস মুর্শিদাবাদের অন্তর্গত কুনিয়া গ্ৰীষ্টম। কয়েক পুরুষ পরে রামরাম দাস নামক এক ব্যক্তি নবাব সরকার হইতে “খাস বিশ্বাস” উপাধিলাভ করিয়া কুনিয়া হইতে কান্দির নিকটবৰ্ত্তী গিধিনাতে আসিয়া বাস করেন। সীতারামের পিতামহ হরিশ্চন্দ্র রাজসরকার হইতে “রায়” উপাধিতে ভূষিত হন। হরিশ্চন্দ্রের পুত্ৰ উদয়নারায়ণ ভূষণার ফৌজদারের অধীনে একটি উচ্চ রাজকাৰ্য্যে নিযুক্ত হইয়া আসেন। উদয়নারায়ণ অত্যন্ত ধৰ্ম্মনিষ্ঠ লোক ছিলেন। তাহার দুই পুত্র জন্মগ্রহণ করেন ; দেবদেবীর নামানুসারে তিনি দুই পুত্রের নাম সীতারাম ও লক্ষ্মীনারায়ণ রাখেন। ইহাদের উভয় ভ্ৰাতাই শৈশব হইতে ধৰ্ম্মপ্ৰাণতার পরিচয় প্ৰদান করিয়াছিলেন। উত্তরকালে সীতারাম যখন ভুজবলে রােজ্যাধিকার করিয়া রাজাসনে সমাসীন হন, তখন তিনি হিন্দুশাস্ত্ৰোক্ত ধৰ্ম্মানুষ্ঠানের যথাবিহিত ব্যবস্থা করিয়াছিলেন। তিনি ১৭০০ খৃষ্টাব্দ হইতে ১৭১৪ খৃষ্টাব্দ পৰ্য্যন্ত পূর্ণ চতুর্দশবর্ষাকাল সম্পূর্ণ স্বাধীন ভাবে রাজত্ব করেন। এই রাজত্ব কালের প্রারম্ভ হইতে শেষ পৰ্য্যন্ত তিনি দেবসেবা এবং লোকসেবার জন্য যথেষ্ট যত্ন ও প্রভূত অর্থব্যয় করিতে কুষ্ঠিত হন নাই। একটি দৈব ঘটনায় সীতারামের সৌভাগ্য সুচিত হয়। বৰ্ত্তমান মহম্মদপুর ও তাঁহার নিকটবৰ্ত্তী স্থানে উদয়নারায়ণের কয়েকখানি তালুক ও জমা ছিল। সে সময় এ সকল স্থানে লোকের বসতি ছিল না ; কোন স্থানে বিস্তৃত জলাভূমি, কোথায়ও বিচিত্র অরণ্যানী এবং কোথাও সুবিন্যস্ত শ্যামল শস্যক্ষেত্ৰ শোভা পাইত। একদা সীতারাম। এই স্থান দিয়া আশ্বারোহণে যাইতে যাইতে ভূগর্ভপ্রোথিত একখানি লৌহশালাকায় তাহার অশ্বের ক্ষুর বিক্ষত হইয়া যায়। সীতারাম অশ্ব হইতে অবতরণ করিয়া দেখিলেন তথায় একখানি ত্ৰিশূলের । অগ্রভাগ দৃষ্ট হইতেছে। তখন তাহার আদেশে ঐ স্থান খনন করা হইলে ।