পাতা:ঐতিহাসিক চিত্র (প্রথম বর্ষ) - নিখিলনাথ রায়.pdf/১১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সীতারামের ধৰ্ম্মপ্ৰাণত > 6° সুধাপানে অতিবাহিত করিতেন, রাজকাৰ্য্যে প্রায়ই মনোভিনিবেশ করিতেন না। এ কথা কতদূর সত্য বুঝিতে পারা যায় না। মহম্মদপুরের সন্নিকটে চিত্তবিশ্রাম নামে একটি গ্রাম আছে বটে ; কিন্তু সে গ্রামে ভদ্রলোকের বসতি নাই, পূর্ব গৌরবের স্মৃতিচিহ্ন নাই। এই স্থানের দক্ষিণ দিয়া এক সময়ে ছত্রাবতী নদী প্রবাহিত হইত ; স্নিগ্ধদীকরসেবী মলয় মারুর্তের মধুর হিল্লোল ঐ স্থানকে বিশ্রামের উপযুক্ত স্থানরূপে পরিণত করিয়াছিল বলিয়া উহার নাম চিত্তবিশ্রাম। এক্ষণে সে ছত্রাবতী নদী নাই। মধুমতী একমাইল দূরে পড়িয়াছে। এক্ষণে চিত্তবিশ্রামের কোনও বিশেষত্ব নাই। লোকে বলে তথায় সীতারামের এক আনন্দকুটীর ছিল, সে কথা বিচিত্র নহে। চিত্তবিশ্রামের মত আরাম-নিবাস কোন রাজারই বা না আছে ? সীতারামের বিলাসিতার দ্বিতীয় নিদর্শন “সুখসাগর” নামক সরোবর। এই সরোবরের মধ্যস্থলে দ্বীপোপরি এক দ্বিতল গৃহে রাজা সীতারাম রায় গ্রীষ্মকালে সপরিবারে বাস করিতেন। বলিয়া কথিত হয় । একজন স্বাধীন রাজার পক্ষে ইহা বিলাসিতার চরম সীমা নহে। সীতারাম অত্যন্ত প্ৰজাবৎসল ছিলেন। প্ৰজাবৰ্গ ভঁাহাকে অত্যন্ত ভক্তি কিরিত। তিনি রাজ্যাধিকার করিলে তাহারা মুসল্মানদিগের অত্যাচার হইতে নিস্কৃতিলাভ করিয়াছিল । সীতারাম সর্বতোভাবে তাহদের মঙ্গলবিধানে যত্নপর ছিলেন। “জলাদুৰ্ভিক্ষ” নামক যে নুতন ব্যাধি বঙ্গদেশকে উৎসন্ন করিতে বসিয়াছে, প্রাচীন বঙ্গে তাহা সম্পূর্ণ অপরিজ্ঞাত ছিল। সীতারাম তাহার বিস্তীর্ণ রাজ্যের সমস্ত স্থানের জলকষ্ট নিবারণ করিয়াছিলেন । কথিত আছে, সীতারাম কি পুণ্যাবল্লেী রাজত্বলাভ করিয়াছিলেন, তাহাই তিনি একদা ভঁাহার গুরুদেবের নিকট জিজ্ঞাসা করেন। গুরুদেব বহুবিধ আচার ও প্রক্রিয়া দ্বারা নিৰ্দ্ধারিত করেন যে “জলদান পুণ্যফলে সীতারাম রাজপদ লাভ করেন।” তদবধি সীতারাম অবিরত চেষ্টা করিয়া নানাস্থানে বহু জলাশয় খনন করেন । এই উদ্দেশ্যে তাঁহার সঙ্গে সঙ্গে সর্বদা প্ৰায় ২২০০ শত খনক বা কোদালী ছিল। । সৰ্ব্বত্রই জলাশয় প্রতিষ্ঠা দ্বারা সীতারামের শুভাগমন বা শুভদৃষ্টি বিজ্ঞাপিত করিত। প্ৰবাদ আছে তিনি প্রতিদিন নুতন পুষ্করিণীর জলে স্নান করিতেন।