পাতা:ঐতিহাসিক চিত্র (প্রথম বর্ষ) - নিখিলনাথ রায়.pdf/১৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৬৪ ঐতিহাসিক চিত্ৰ । শাসন-সময়ের এই সকল শাসনলিপির কবিতাবলীর সবিশেষ সামঞ্জস্য লক্ষিত হয়। মহামাত্যপদে নিযুক্ত থাকিবার সময়ে হলায়ুধের প্রতি কিরূপ কাৰ্য্যভার সমৰ্পিত ছিল, তাহার প্রমাণ না থাকিলেও, কিছু কিছু পরিচয় প্রাপ্ত হওয়া যায়। তৎকালে লক্ষ্মণ-সেনদেব নিয়ত যুদ্ধবিগ্রহে লিপ্ত হইয়া, নানা দিগেদশে অসিহস্তে ধাবমান। তখন মহামাত্যই তঁহার পরামর্শ দাতা, পিতৃরাজ্য শাসনের সহকারী, এবং সংগ্রাম-নির্জিত অভিনব রাজ্যে সুশাসন বিস্তৃত করিবার প্রধান মন্ত্রণাদাতা। এই রূপে বিদ্যায়, অভিজ্ঞতায়, সম্পূর্ণরূপে ধৰ্ম্মাধ্যক্ষের সৰ্বোচ্চপদবীর যোগ্য হইয়া, হলায়ুধ বাদ্ধক্যে বিচারাসনে উপবিষ্ট হইয়া, কিরূপে বিচার-কাৰ্য্য নির্বাহ করিতেন, তাহার বিশিষ্ট প্ৰমাণ ভবিষ্যতে আবিষ্কৃত হইবার সম্ভাবনা তিরোহিত হয় নাই। র্তাহার সদগণাবলী শিলাপটে উৎকীর্ণ হইয়া এবং কবি-নিবন্ধে সন্নিবিষ্ট হইয়া, গ্রামে নগরে নানা স্থানে গৃহে গৃহে নিদর্শনরূপে রক্ষিত হইবার কথা “ব্ৰাহ্মণ সৰ্ব্বস্বে” লিখিত আছে। তাহা আবিষ্কৃত হইলে, নানা ঐতিহাসিক-রহস্তের দ্বার উদঘাটিত হইতে পারে। হলায়ুধের পূর্বেই বঙ্গদেশে পুনরায় সংস্কৃত-শিক্ষার সমুন্নতি সাধিত হইয়াছিল। এক সময়ে পৌণ্ডবৰ্দ্ধন-ভুক্তির অন্তর্গত বরেন্দ্ৰ-ভূমি পাণিনীয় ব্যাকরণের অধ্যয়ন অধ্যাপনার জন্য বিখ্যাত ছিল। পাণিনীয় ব্যাকরণই অদ্যাপি বরেন্দ্ৰভূমির একমাত্র অবলম্বন ; কিন্তু অল্পদিন হইতে তাহা ক্ৰমে ক্ৰমে বিলুপ্ত হইয়া পড়িতেছে। “রাজ-তরঙ্গিণী” পাঠে বোধ হয়—জয়াপীড়ের অজ্ঞাতবাসের সময়ে গৌড়মণ্ডলে “মহাভায্যের” পঠনপাঠন পূর্ণ মাত্রায় প্রচলিত ছিল। কাশ্মীরে তাহা লুপ্ত হইয়াছিল বলিয়া, জয়াপীড়ের চেষ্টায় তাহা এ দেশ হইতেই কাশ্মীরে পুনরায় সমানীত হইয়াছিল। উত্তরবঙ্গের এই শিক্ষা-গৌরব বৌদ্ধাধিকারের শেষ দশায় ক্ষুন্ন হইয়া পড়িতেছিল। তখন বেদাৰ্থ । জ্ঞানের প্রয়োজন অস্বীকার করিয়া, ব্ৰাহ্মণসমাজ আবৃত্তিমাত্রেই পরিতুষ্ট । হইতেন। অথচ পাণিনি-ব্যাকরণের বহুসংখ্যক বৈদিক সূত্র অধ্যয়ন করিয়া অকারণে বালকগণ পরিশ্রান্ত হইত। লক্ষ্মণ-সেনদেব এই অসুবিধা দূত্র করিবার জন্য বৌদ্ধ পুরুষোত্তমদেবকে বৈদিক-সূত্ৰ-বিবৰ্জিত পাণিনি-সুত্রের