পাতা:ঐতিহাসিক চিত্র (প্রথম বর্ষ) - নিখিলনাথ রায়.pdf/২৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


RRO ঐতিহাসিক চিত্ৰ । ছিলেন। বন্ধু, শত্রু ও সর্বাপেক্ষা খালসাগণ র্তাহার রাজনৈতিক কূটবুদ্ধি অতি অল্পকাল মধ্যেই অনুভব করিয়াছিলেন এবং অনেক সময়ে তাহার উদ্দেশ্য না বুঝিয়াই ও র্তাহার মতে অমত থাকিলেও সকলে রণজিতের Rবলম্বন করিতেন । রণজিৎ যে কাৰ্য্য করিতেন, সকল বিষয়েই তিনি “ স্বয়ংই উপদেষ্ট এবং যৌবৃন কাল হইতে মৃত্যুকাল পৰ্যন্ত তিনি আজ্ঞাদান করিতেই জন্মিয়াছেন ও অপারে উহা বহন করিতে জন্মিয়ােেছ ইহাই বোধ হইত। ১৮০৮ খৃষ্টাব্দে সৈন্য বিভাগের পরিবর্তন আবশ্যক বিবেচনায় রণজিৎ বহু বিদেশীয়কে উচ্চপদ দেন ও বহু সংখ্যক হিন্দুস্থানী, গুরখা প্ৰভৃতিকে সৈন্যস্বরূপে নিযুক্ত করেন, ইহা ব্যতীত তিনি ইংরাজের সহিত বন্ধুত্ব স্থাপন করিয়াছিলেন। এই সকল তাহার প্রজাবর্গের সম্পূর্ণ অনভিমতে হইলেও তাহারা র্তাহার বুদ্ধিমত্তার প্রতি অন্ধবিশ্বাসে কিছুতেই বাধা দেয় নাই । অধিক বয়সে র্তাহার সঞ্চয়স্পৃহা অত্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি শিখ ও মুসলমান সকলের নিকট হইতে অর্থশোষণ করিতে লাগিলেন । গোবিন্দগড় রাজকোষে কোটি কোটি মুদ্রা সঞ্চিত থাকিলেও তিনি সৈনাগণের প্রাপ্য বেতন সমস্ত দিতেন না। তাহারা বিদ্রোহী হইলে তিনি কিছু কিছু দিয়া থামাইতেন । রণজিৎ এরূপ কৃপণ হইলেও দানশীল ছিলেন । তাহার প্রশংসাকারিগণ বলিতেন যে, তিনি এক দিনে একশত গ্রাম অধিকার করিয়া পর দিবস একটি মৌখিক আজ্ঞায় সমস্তই অপরকে দান করিতেন । তাহার সর্দার ও তহশীলদারগণ র্তাহাকে বঞ্চনা করিয়া অর্থেপাৰ্জন করিতেন—কিন্তু তাহাদিগের মৃত্যু হইলে কিংবা কোন কারণে র্তাহারা সম্মান হারাইলে তিনি তাহাদিগের গৃহ সম্পত্তি লুণ্ঠন করিয়া সমস্ত হিসাব মিলাইয়া লইতেন । যখন যে কাৰ্য্যে থাকুন না কেন, সততই তিনি খালসা-গৌরবের জন্য ব্যস্ত। একজন সৎশিক্ষকের ন্যায় ভােব দেখাইতেন। তিনি যে পাঁচলক্ষ মাত্র খালসাকে ভারতের সর্বাপেক্ষা প্ৰবল জাতিতে পরিণত করিয়াছিলেন, তজ্জন্য তাহাদিগের নিকট তিনি যে ধন্যবাদার্থ ইহাতে সন্দেহ নাই। প্ৰত্যেক শিখই খালসাদিগের ন্যায় অধিকার পাইত, তাহাদিগকেও কর দিতে হইত না ও তাহারা অত্যাচার ও পরদ্রব্যলুণ্ঠন দ্বারা