পাতা:ঐতিহাসিক চিত্র (প্রথম বর্ষ) - নিখিলনাথ রায়.pdf/২৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२०७ ঐতিহাসিক চিত্র। অবস্থায় আনয়ন করে। চাৰ্ণক তাহাকে নিজ আবাসস্থানে লইয়া যান, এবং উক্ত বিধবাকে পত্নীরূপে গ্ৰহণ করেন । র্তাহার গর্ভে চার্ণকের অনেকগুলি সন্তান জন্মগ্রহণ করিয়াছিল। কলিকাতা প্ৰতিষ্ঠার কিছুকাল পরে তঁহার উক্ত পত্নীর মৃত্যু হইলে, তথায় তাহাকে সমাহিত করা হয়। * 'Before, or about the year I 678-79, Mr. Charnock, smitten with the charms of a young and beautiful Hindu, who decked with her most pompous ornaments, and arryed in her fairest drapery, was at the point of sacrificing an innocent life, of (perhaps) fifteen summers on the alter of Paganism, directed his guards to seize the half-unwilling victim ; the obedient guards rescued her from an untimely death and Charnock softly conducted her to his house. They lived together many years. She bore to him several children, and dying shortly after the foundation of his new city, was entered at Mausoleum, which to this day stands entire, and is the oldest piece of masonry in Calcutta." (Bengal Obituary P. 2.), চার্ণকের এই পত্নঃ সম্বন্ধে নানারূপ কথা প্ৰচলিত আছে। কাপ্তেন হামিণ্টন অনেক প্রমাণের উপর নির্ভর করিয়া বলিয়াছেন যে, চাৰ্ণক তঁহার স্ত্রীর মৃত্যুর পর তঁহার সমাধির উপর একটি কুকুট বলি দিতেন। এই কুকুট-বলি লইয়া ঐতিহাসিকগণের মধ্যে মহা কোলাহল পড়িয়া গিয়াছে। হেজেস ডায়েরী সম্পাদক ইউল সাহেব বলেন যে, উহা হিন্দু বা খৃষ্টান প্রথা সম্মর্ত নহে। উইলসন সাহেব ডাক্তার ওয়াইজের প্রমাণ তুলিয়া বলেন যে, মুসলমান ও হিন্দুরা পাঁচ পীর মানিয়া থাকে, সেই পাঁচ পীরের জন্য কুকুট বলি দেওয়া হয়। উইলসন সাহেবের এ যুক্তির বিশেষ কোন মূল্য আছে বলিয়া বোধ হয় না। হিন্দুরা পাঁচ পীর মানিলে যে মোরগ বলি দেয়। ইহা প্রকৃত নহে। আর যদিও কোন কোন হিন্দু ‘তাঁহা স্বীকার করে, তথাপি যাহাঁদের বিধবা সহমরণে যাইতে পারে, সেরূপ হিন্দু কখনও মোরগবলি স্বীকার করে না। কি লইয়া এই গোলযোগ তাহা আমরা বুঝিতে পারি না। চাৰ্ণকের পত্নী হিন্দু বিধবা হইলে, তিনি যে মোরগবলি মানিতেন, ইহার প্রমাণ কোথায় ? তাহার মৃত্যুর পর চার্ণকই মোরগ বলি দিতেন, এ প্রথা চার্ণ করই অনুমোদিত। উক্ত হিন্দু বিধবা চার্শকের পত্নী হইলে তিনি যে আর হিন্দু ছিলেন না। তাহা বোধ হয় বুঝিতে বিলম্ব হইবে না। এক্ষণে উক্ত পক্ষীটি তাহার প্রিয় ভক্ষ্য হইয়াছিল বলিয়া, কি চাৰ্ণক অন্য কোনও কারণে মোরগ বলি দিতেন, তাহার সিদ্ধান্ত কিরূপে হইবে ? ফলতঃ ইহাতে চাৰ্শকের খৃষ্টধৰ্ম্মের প্রতি তাদৃশ আস্থা ছিল না ইহার প্রমাণ হইতে পারে। ইউল সাহেব উক্ত বিধবাকে সতীদাহ হইতেঁ, উদ্ধার করার প্ৰতি সন্দিহান হইয়া থাকেন। তিনি বলেন যে, সে সময়ে পাটনায় বা অন্য কোন স্থানে ইউরোপীয়দিগের এরূপ সাহস ছিল না যে, কোন হিন্দু বিধবাকে চিতা হইতে উদ্ধার করিয়া বিবাহ করেন। ইউল এই বিষয়ে বিশেষরূপে বিবেচনা করেন নাই। বস্তুতঃ সহসা ইউরোপীয়গণ এরূপ, করিতে সাহস করিতেন না। সত্য, কিন্তু ইহা একটি বিশিষ্ট ঘটনা। এই ঘটনাটি পৰ্য্যালোচনা করিতে আমাদের জানিতে হইবে যে, তৎকালে মোগল বাদ্যসাহিন্দিগের বিনা আদেশে