পাতা:ঐতিহাসিক চিত্র (প্রথম বর্ষ) - নিখিলনাথ রায়.pdf/২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভাঙ্কো ডা গামা । Rvo { জামরীণ রণতরী সংগ্ৰহ করিয়া যুদ্ধার্থে উপস্থিত হন, কিন্তু কৃতকাৰ্য্য হইতে পারেন নাই। এই যুদ্ধে অসংখ্য মুসল্মান হত হয়, তাহাদের কতকগুলি জাহাজ ধৃত ও লুষ্ঠিত হয়। অবশেষে ১৫০৩ খৃষ্টাব্দে স্বদেশে প্রত্যাগত হইয়া ভাস্কো ভারতসমুদ্রের “এডমিরাল” বা নৌসেনাপতি আঠখ্যা প্ৰাপ্ত হন। প্ৰথমবার ভারতবর্ষ হইতে প্ৰত্যাগমন করিয়াই ভাঙ্কো ক্যাথারিণ নামী এক উচ্চবংশীয় রমণীর পাণিগ্রহণ করেন, এবং তঁাহার ছয়টি পুত্র জন্মে। ভাস্কো পুত্রপরিজনসহ মহাসম্মানে জীবনের শেষভাগ অতিবাহিত করিতেছিলেন। অবশেষে ১৫২৪ খৃষ্টাব্দে অর্থাৎ যখন তঁাহার বয়স ৫৬ বৎসর হইয়াছিল, তখন আবার ভারতাভিযানের প্রবৃত্তি তাহার মনোমধ্যে জাগ্ৰত হয়। এসময়ে ভারতভূখণ্ডে পাটুগালের বিজয় বৈজয়ন্তী প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে ; গোয়া, অরমাজ প্রভৃতি স্থান অধিকৃত হইয়াছে ; পটুগীজদিগের বাণিজ্য ভারতবর্ষের নানাস্থানে ও ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জে প্রসারিত হইয়াছে। এবার ভাস্কো বৃদ্ধিবয়সেও নবীনযুবকের মত উৎসাহশীল হইয়া দুইপুত্ৰ সমভিব্যাহারে ভারতাভিমুখে যাত্ৰা করেন। তিনি ভারতীয় পটুগীজ সাম্রাজ্যসমুহের রাজপ্রতিনিধি নিৰ্বাচিত হইয়া যান। নৃপতি এমানুয়েলের মৃত্যু হওয়াতে এসময় তৃতীয় জ্যন পটুগাল শাসন করিতেছিলেন ; এবার ভাস্কো তিন মাস মাত্র ভারতবর্ষে ছিলেন।” এই অল্পকাল মধ্যেই তিনি দুষ্ট ও বিশ্বাসঘাতক পটুগীজ কৰ্ম্মচারীদিগকে যথোচিত শাস্তি প্ৰদান । করিয়া তত্ৰত্য শাসনপ্রণালীর আমূল সংস্কার করেন। কিন্তু অল্পদিন মধ্যেই ভীষণ ‘রোগাক্ৰান্ত হইয়া ২৪শে ডিসেম্বর তারিখে কোচিনে তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন। কোচিনে তাহার সমাধি হয়, কিন্তু কয়েক বৎসর পরে উক্ত স্থান হইতে র্তাহার অস্থি স্থানান্তরিত করিয়া পটুগালের একটি শান্তিময় পবিত্ৰ সমাধিস্থলে সযত্নে সমারোহে রক্ষিত হইয়াছিল। যে ভারতভূমি তাহার জীবনের প্রধান লক্ষ্য হইয়াছিল, সেই স্থানেই তাহার দেহবসান হয়। শ্ৰীসতীশচন্দ্ৰ মিত্ৰ।