পাতা:ঐতিহাসিক চিত্র (প্রথম বর্ষ) - নিখিলনাথ রায়.pdf/৩৯৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


NOY ঐতিহাসিক চিত্র । চিরবিদ্যমান। এক্ষণে তাহার নিজ যুগে সে যে আরও প্ৰবল হইয়া উঠিৰে ইহাতে সংশয় কি। সাধারণতঃ এরূপ শ্রুত হওয়া যায় যে, চীনদেশ হইতে বারুদ ও আগ্নেয়াস্ত্রের আবিষ্কার হইয়াছিল । কিন্তু আমরা জানিতে পারি যে, ভারতবর্ষে বহুপূৰ্বে আগ্নেয়াস্ত্র ও অগ্নিচুর্ণের আবিষ্কার হইয়াছিল। আগ্নেয়ন্ত্র তৎকালে সাধারণতঃ বৃহন্নালিক (কামান ) ও ক্ষুদ্রনালিক (বন্দুক ) নামে অভিহিত হইত। কিন্তু আগ্নেয়াস্ত্ৰ ব্যবহার কেবল কৌশলপূৰ্ণ হওয়ায়, তাহা দেবতা বা ধাৰ্ম্মিক ব্যক্তিগণের ব্যবহাৰ্য্য ছিল না। অসুর ও দুণীত লোকগণ তাহার ব্যবহার কারিত । এই জন্যই ক্ৰমে ক্ৰমে তাহার বিশেষরূপ ব্যবহার ভারতবর্ষ হইতে লুপ্ত হয়। তাহার পর মুসলমান রাজত্বকালে ইউরোপীয়দিগের আগমনের সঙ্গে কামান ও বন্দুকের ব্যবহার ভারতবর্ষে প্ৰচলিত হইতে আরম্ভ হয়। ইউরোপীয়দিগের মধ্যে প্রথমে পার্ট গীজগণ এতদ্দেশে আগমন করেন এবং তঁহাদের দ্বারাই ভারতবর্ষ বিশেষতঃ বঙ্গদেশে কামান বন্দুকের প্রচলন হয়। পাঠান রাজত্বকাল হইতেই তাহার সুচনা ঘটে। পরিশেষে মোগল রাজত্বকালে তাহা বিস্তৃত ভাবে প্ৰচলিত হয় । যে সময়ে বাঙ্গলা দেশ হইতে পাঠান-লক্ষ্মী চিরবিদায় গ্ৰহণ করিয়াছিলেন, এবং মোগল রাজলক্ষ্মী আপনার জ্যোতিৰ্ম্ময়-মূৰ্ত্তির বিকাশ আরম্ভ করিয়াছিলেন, সেই সময়ে আমরা জানিতে পারি যে, বাঙ্গলার রণক্ষেত্র অন্যান্য যুদ্ধান্ত্রের শব্দের সহিত কামান বন্দুকের আরাবে ধ্বনিত হইয়া উঠিতেছিল। বঙ্গবীর প্রতাপাদিত্য, কেদাররায়, কন্দৰ্পরায় প্ৰভৃতি অগ্নিক্রীড়ায় সকলকে চমৎকৃত করিয়া তুলিয়াছিলেন। প্ৰতাপাদিত্যের রাজধানীর নিকটে কামান বন্দুকের কারখানা স্থাপিত হইয়াছিল। অদ্যাপি তাহার চিকু বৰ্ত্তমান আছে, এবং সেই সেই স্থান হইতে ভূমিকৰ্ষণকালে অদ্যাপি গোলাগুলি পাওয়া যায়। কেদাররায়ের সহিত মানসিংহের সৈন্যের অগ্নিক্রীড়া হইয়াছিল । ইহা মুসলমান ঐতিহাসিকগণের গ্রন্থে দেখিতে পাওয়া যায়। চন্দ্ৰদ্বীপের রাজা কন্দৰ্পরায় বন্দুকসন্ধানে তৎপর ছিলেন, ইহা প্ৰথম ইংরেজ পরিব্রাজক রালফ ফিচ উল্লেখ করিয়া গিয়াছেন। ফলতঃ বঙ্গদেশে তখন আগ্নেয়ান্ত্রের প্রচলন বিশেষরূপেই আরবন্ধ হইয়াছিল ।