বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ওরা থাকে ওধারে - প্রচার পুস্তিকা (১৯৫৪).pdf/৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ওরা থাকে ওধারে

দড়াম করে দরজাটা খুলে যায়।... ... ... ...

সামনে শিবদাস আর তার পেছনে সেলাই এর কল হাতে নেপাল,—“ভারী একটা ভাঙ্গা সেলাইএর কল তার আবার ফুটানি।” নেপাল পারলে বোধহয় ছুড়েই ফেলে দেয়! ‘আস্তে, মশাই আস্তে’ ও কল ভাঙ্গলে আপনাকে বিক্রি করেও দাম উঠবেনা। কথাটা বলেন এ বাড়ীর কর্ত্তা হরিমোহন বাবু—

‘কি কইলেন’ নেপাল রুখে দাড়ায়। ঝগড়াটা তারপর যথারীতি শেষ হয়। সেলাইএর কলের বদলে নেপাল নিজেদের ইলেকট্রিক ইস্ত্রিটা ওবাড়ির প্লাগ থেকে একরকম ছিঁড়েই নিয়ে আসে। হরিমোহন বাবুদের তরফ থেকে কার্ত্তিক তার শোধ নেয় র‍্যাশন ব্যাগটা এবাড়ি থেকে কেড়ে নিয়ে গিয়ে। তারপর দলাদলির টানাটানি চলে। শিবদাসের ছোট ছেলে নানু ও হরিমোহনের ছোটমেয়ে রিনি একসঙ্গে স্কুল থেকে গল্প করে ফিরতে না ফিরতেই দুধারের টানাটানিতে হচকচিয়ে যায়। এরপরে শিবদাসের ভাগনী মিলু আর হরিমোহন বাবুর বড় ছেলে চঞ্চলের পালা। এরকম ঝগড়া নতুন নয়। ঝগড়া যখন লাগে তখন মনে হয় নিচে ওপরে নামবার ওঠবার সিঁড়িটা এক না হলে দুধারের দুই ফ্ল্যাটের কেউ আর জীবনে কারুর মুখ দর্শন করতেন না।

এধারে থাকেন সপরিবারে শিবদাসবাবু—স্বামী-স্ত্রী, ছোটছেলে নানু, ভাগনী প্রমীলা ওরফে মিলু ও শ্যালক নেপাল। ওধারে থাকেন সস্ত্রীক হরিমোহন



ওরা থাকে ওধারে