পাতা:কথা-চতুষ্টয় - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
২০
কথা-চতুষ্টয়।

ছুতা করিয়া তাহার কাছ হইতে বাহির করিতে পার! কিন্তু আমার মাথা খাও বলিয়ো না যে, আমি চাহিতেছি, কিম্বা কি জন্য চাহিতেছি!”

 তখন হরসুন্দরী মর্ম্মান্তিক বিরক্তি ও ঘৃণাভরে বলিয়া উঠিল, “এই কি তোমার ছল ছুতা করিবার সোহাগ দেখাইবার সময়! চল!” বলিয়া স্বামীকে লইয়া ছোট-বৌয়ের ঘরে প্রবেশ করিল।

 ছোট-বৌ কিছু বুঝিল না। সে সকল কথাতেই বলিল, “সে আমি কি জানি!”

 সংসারের কোন চিন্তা যে তাহাকে কখন ভাবিতে হুইবে এমন কথা কি তাহার সহিত ছিল? সকলে আপনার ভাবনা ভাবিবে এবং সকলে মিলিয়া শৈলবালার আরাম চিন্তা করিবে, অকস্মাৎ ইহার ব্যতিক্রম হয়, এ কি ভয়ানক অন্যায়!

 তখন নিবারণ শৈলবালার পায়ে ধরিয়া কাঁদিয়া পড়িল। শৈলবালা কেবলি বলিল, “সে আমি জানি না। আমার জিনিষ আমি কেন দিব?”

 নিবারণ দেখিল ঐ দুর্ব্বল ক্ষুদ্র সুন্দর সুকুমারী বালিকাটি লোহার সিন্ধুকের অপেক্ষাও কঠিন। হরসুন্দরী সঙ্কটের সময় স্বামীর এই দুর্ব্বলতা দেখিয়া ঘৃণায় জর্জ্জরিত হইয়া উঠিল। শৈলবালা চাবি বলপূর্ব্বক কাড়িয়া লইতে গেল। শৈলবালা তৎক্ষণাৎ চাবির গোচ্ছা প্রাচীর লঙ্ঘন করিয়া পুষ্করিণীর মধ্যে ফেলিয়া দিল।