পাতা:কবিকঙ্কণ-চণ্ডী (প্রথম ভাগ) - চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৮৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শক্তি পূজার ইতিহাস S সিদ্ধি হইবে। এই উপদেশ অনুসারে বশিষ্ঠ মহাচীনে গিয়া দেখিলেন বুদ্ধদেব বামাচারে বামামণ্ডলে বসিয়া মন্ত পান করিতেছেন। বশিষ্ঠ বুদ্ধদেবের নিকট দীক্ষিত হইলেন। ভারতবর্ষের দুই প্ৰান্ত কাশ্মীর ও বঙ্গ-মোঙ্গলদেশের সহিত ঘনিষ্ঠ সংযুক্ত বলিয়া এই দুই স্থানে তন্ত্রাচার প্রবল হইয়া বদ্ধমূল হইতেছিল। কুষাণ সম্রাটু কণিষ্ক যখন কাশ্মীরের রাজা, তখন তিনি শৈব শাক্ত ধৰ্ম্মের প্রধান পোষক এবং তারই সময়ে নাগাৰ্জন ও অশ্বঘোষ তান্ত্রিকতার প্রধান প্রচারক ছিলেন । বঙ্গদেশে এককালে শক আধিপত্য ছিল; এবং শকেরা ছিল শৈব-শাক্ত। তৎপরবর্তীকালে বঙ্গে বৰ্দ্ধন-গুপ্ত-পাল বংশের রাজারা শৈব ও শাক্ত ধৰ্ম্মাবলম্বী হইয়া তান্ত্রিক ধৰ্ম্মে অনুরক্ত হন । এইজন্য বঙ্গে তান্ত্রিকতা প্ৰতিষ্ঠালাভের সুযোগ পায়। এই সময়ে বৌদ্ধতন্ত্র ও শৈব-শাক্ত ধৰ্ম্ম পরস্পর সন্নিহিত হইতে হইতে একাকার ধারণ করিতেছিল এবং বৌদ্ধতন্ত্র ও শৈব-শাক্ত-তন্ত্র পরস্পবের উপর প্রভাব বিস্তার করিয়াছিল। গুপ্ত রাজাদের সময়ে ৫ম-৬ষ্ঠ শতাব্দীতে তান্ত্রিকতা অত্যন্ত প্ৰবল হইয়া উঠে এবং এই সময়েই পীঠস্থানের কল্পনা হইয়া থাকিবে। যতগুলি মহাপীঠ ও উপপীঠ আছে তার অনেকগুলি বঙ্গে অবস্থিত। প্ৰধান পীঠ কামাখ্যা আসামে ; সুগন্ধা বরিশালে, দেবীর নাসিকার পতনস্থান ; দেবীর অধর যেখানে পড়িয়াছিল সেই স্থানের নাম আটহাস, দেবীর নাম ফুল্ল-রা অর্থাৎ মধুভাষিণী, আহমদপুর ষ্টেশন হইতে লাভপুরে যাইতে হয় ; বামিতার পতনের স্থান বগুড়া সেরপুরের সন্নিহিত করতোয় ; কাটোয়ার কাছে জুড়নপুরে দেবীর মুণ্ড পতনের পীঠের নাম কালীঘাট ; কলিকাতার কালীঘাটও দেবীর দক্ষিণ চরণের চার অঙ্গুলির দাবী রাখে ; আজিমগঞ্জের নিকট কিৰীট গ্রাম দেবীর কিরীট পতনে নাম পাইয়াছিল; শ্ৰীহট্ট দেবীর গ্রীবা পতনের স্থান ; নলহাটিতে দেবীর নলা পড়িয়াছিল; চট্টগ্রামে দক্ষিণ-হস্তাদ্ধ; উজানিতে দেবীব কনুই ; কাটোয়ার নিকট কেতুগ্রামে বাম বাহু পড়ে, পীঠের নাম বহুল ; বোলপুরের কোপাই নদীর তীরে কাঞ্চি পীঠ দেবীর কঙ্কালের স্থান; বাম জঙ্ঘা পাইয়াছিল জয়ন্তী-নামের সাদৃশ্যে শ্ৰীহট্টে ও আমতার নিকটে দুই স্থান সেই সৌভাগ্য দাবী করিয়া আসিতেছে; দক্ষিণ চরণের অঙ্গুষ্ঠ পড়ে ক্ষীরাগ্রামে, কাটোয়ার কাছে; মন বা ক্ৰমধ্য লাভ করে বক্রেশ্বর-আমদপুরের নিকট ; হার পাইয়াছিল সাঁইথিয়ার সন্নিকট নন্দীপুর ; বামণ্ডলফ পতনের স্থান মেদিনীপুরের তমলুকের নিকটস্থ বিভাস; বাম পদ পড়িয়াছিল জলপাইগুড়ির তিস্তা বা ত্রিস্রোতার বুকে ; মালদহের পৌণ্ডবৰ্দ্ধন ও চণ্ডীপুর দুই জায়গাই পীঠস্থান বলিয়া দাবী করে। এই-সব নানা পীঠের অবস্থান ও সংখ্যা হইতে দেখা যায় ক্রমশঃ বহু পীঠ কল্পিত হইয়া আসিয়াছে। পীঠমালায় পীঠ বলিয়া অসংখ্য স্থানের নাম আছে। উত্তর রাঢ়েয় সহিত তান্ত্রিক ধৰ্ম্মের একটু বিশিষ্ট সম্পর্ক ছিল বােধ হয়। অন্ত্রবর্ণিত মহাপীঠ ও উপপীঠের মধ্যে অনেকগুলি