বাহির করিয়া দিল। স্বামী প্রাচীন বয়সে একটি ব্যবসা ফাঁদিবার ইচ্ছা করিয়াছেন, কিন্তু শেষ বয়সে হাত খালি- টাকা নইলে ব্যবসা হয় না, ঝুনোর উপর দৃষ্টি। দুই চারটি প্রবৃত্তিরূপ দত্ত ফুটাইয়া দিলেন —বুড়া বয়সে দাঁত ভাঙ্গিয়া গেল। শেষে যদি দাঁত বসিল, নারিকেল জীর্ণ করিবার সাধ্য কি? যতদিন না টাকা ফিরিয়া দেন, ততদিন—অজীর্ণ রোগে নিদ্রা হয় না।
তারপরে মালা—এটি স্ত্রীলোকের বিদ্যা— কখনও আধখানা বৈ পুরা দেখিতে পাইলাম না। নারিকেলের মালা বড় কাজে লাগে না, স্ত্রীলোকের বিদ্যাও বড় কাজে লাগে না, স্ত্রীলোকের বিদ্যাও বড় নয়। মেরি সমরবিল বিজ্ঞান লিখিয়াছেন, জেনঅষ্টেন বা জর্জ এলিয়ট উপন্যাস লিখিয়াছিলেন— মন্দ হয় নাই, কিন্তু দুই মালার মাপে।
ছোবড়া- স্ত্রীলোকের রূপ। ছোবড়া নারিকেলের বাহ্যিক অংশ। দুই বড় অসার পরিত্যাগ করাই ভাল। তবে ছোবড়ায় একটি কাজ হয়, উত্তম রজ্জু প্রস্তুত হয়, তাহাতে জাহাজ বাঁধা গিয়াছে। তোমরা যেমন নারিকেলের কাছিতে জগন্নাথের রথ টান, স্ত্রীলোকেরা রূপের কাছিতে কত ভারি ভারি মনোরথ টানে। যখন রথটানা রাবণের আইন হইবে, তখন তাতে এ রথ টানা নিষেধের জন্য যেন একটা ধারা থাকে, তাহা হইলে অনেক নরহত্যা নিবারণ হইবে। আমি জানি না, নারিকেলের রজ্জু গলায় বাঁধিয়া কেহ কখনও প্রাণত্যাগ করিয়াছেন কি না কিন্তু রমণীর রূপরজ্জু গলায় বাঁধিয়া কত লোক প্রাণত্যাগ করিয়াছে, কে তাহার গণনা করিবে?
বৃক্ষের নারিকেল এবং সংসারের নারিকেলের সঙ্গে আমার বিবাদ এই যে, আমি হতভাগ্য দুয়ের এককেও আহরণ করিতে পারিলাম -না। অন্য ফল আকর্ষি দিয়া পাড়া যায়, কিন্তু নারিকেল গাছে না উঠিলে পাড়া যায় না। গাছে উঠিতে গেলেও হয় নিজের পায়ে বাঁধিতে হইবে, না হয় ডোমের খোসামোদ করিতে হইবে।
ডোমের খোসামোদ করিতেও রাজী আছি আমি। আমার ভাগ্য-
১২