এখন দুই প্রকার হইতেছে—দেশী কুমড়া ও বিলাতী কুমড়া। বিলাতী কুমড়া বলিলে এমত বুঝায় না যে, এই কুমড়াগুলি বিলাত হইতে আসিয়াছে। যেমন দেশী মুচির তৈয়ারী জুতাকে ইংরেজী জুতা বলে, ইহারাও সেইরূপ বিলাতী। বিলাতী কুমড়ার যে গৌরব অধিক ইহা বলা বাহুল্য। সংসারোদ্যানে আরও অনেক ফল ফলে, তন্মধ্যে সর্বাপেক্ষা অকর্মণ্য কদর্য টক
তৃতীয় সংখ্যা
ইউটিলিটি* বা উপরদর্শন
বেন্থাম্ হিতবাদ-দর্শনের সৃষ্টি করিয়া ইউরোপে অক্ষয় কীর্তি স্থাপন করিয়া গিয়াছেন।
আমি এই হিতবাদ-মতে অমত করি না, বরং আমি ইহার অনুমোদক, তবে আপনারা জানেন কি না বলিতে পারি না, আমি একজন সুযোগ্য দার্শনিক। আমি এই হিতবাদ-দর্শন অবলম্বন করিয়া, কিছু গড়িয়া একটি নূতন দর্শনশাস্ত্র প্রণয়ন করিয়াছি। প্রকৃতপক্ষে তাহা বাঙ্গালায় প্রচলিত হিতবাদ দর্শনের নূতন ব্যাখ্যামাত্র। তাহার স্থূল মর্ম আমি সংক্ষেপতঃ লিপিবদ্ধ করিতেছি। প্রাচীন প্রথানুসারে দর্শনটি সূত্রাকারে লিখিত হইয়াছে এবং আমি স্বয়ংই সূত্রের ভাষ্য করিয়া তাহার সঙ্গে সঙ্গে লিখিয়াছি। বাঙ্গালাতেই সুত্রগুলি লিখিত হইয়াছে, আমি যে অসংস্কৃতজ্ঞ, এমত কেহ মনে করিবেন না। তবে সংস্কৃতে সুত্রগুলি কয়জন বুঝিতে পারিবে। অতএব সাধারণ পাঠকের প্রতি অনুকুল হইয়া বাঙ্গালাতেই সমস্ত কার্য নির্বাহ করিয়াছি। সেই সূত্রগ্রন্থের সারাংশ এই:—
১। জীবশরীরস্থ বৃহৎ গহ্বর বিশেষকে উদর বলে।
ভাষ্য ॥ বৃহৎ—অর্থাৎ নাসিকা-কর্ণাদি ক্ষুদ্র গহ্বরকে উপর বলা যায় না। বলিলে বিশেষ প্রত্যবায় আছে।
জীবশরীরস্থ বৃহৎ গহ্বর—জীবশরীরস্থ বলিবার তাৎপর্য এই যে,